আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে সৌদি আরব ও কাতার। বার্তাসংস্থা এএফপিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সংশ্লিষ্ট এক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। চলমান সামরিক উত্তেজনা যাতে আরও বিস্তৃত আকার ধারণ না করে, সে লক্ষ্যে দুই দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
সূত্রটি জানিয়েছেন, কাতারের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌদি আরব পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে। তাদের লক্ষ্য পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানো এবং সংঘর্ষ যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় তা নিশ্চিত করা। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সংঘাতে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর অন্তত ২২টি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। এতে আফগানিস্তানের ২৭৪ সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি ইসলামাবাদের। অপরদিকে নিজেদের ১২ সেনা নিহত হওয়ার তথ্যও জানিয়েছে পাকিস্তান।
ঘটনার সূত্রপাত গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে অবস্থানরত পাক সেনাদের ওপর সমন্বিত হামলা চালায় আফগান সেনারা। এর আগে রোববার পাকিস্তান আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছিল। আফগানিস্তান জানিয়েছিল, ওই হামলার জবাব যথাসময়ে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার রাতের হামলাকে সেই জবাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আফগান বাহিনীর হামলার জেরে রাত থেকেই পাল্টা অভিযান শুরু করে পাকিস্তান। রাজধানী কাবুলসহ অন্তত চারটি প্রদেশে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইংয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আফগানিস্তানে অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের সেনাপ্রধান ফাসিউদ্দিন ফিত্রাত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান যদি সামনে আরও হামলা চালায়, তাহলে তার জবাব আরও শক্তিশালী ও জোরালোভাবে দেওয়া হবে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এমন অবস্থায় সৌদি আরব ও কাতারের কূটনৈতিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই দেশের হস্তক্ষেপ সংঘর্ষ প্রশমনে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে দ্রুত উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব শুধু দুই দেশেই নয়, পুরো অঞ্চলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: এএফপি