আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান প্রকাশ্যভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, যা গতকাল রাতে আফগান সেনাদের অতর্কিত হামলার জবাবে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান বিমানবাহিনী কাবুলসহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে বিমান হামলা চালাচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইংয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সামরিক অভিযান এখনো চলমান এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের অবস্থান অটল রয়েছে।
আফগান সেনাপ্রধান ফাসিউদ্দিন ফিত্রাত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি পাকিস্তান আরও হামলা চালায়, তাহলে তারা আরও শক্তিশালী এবং জোরালো জবাব দেবে। দু’পক্ষের মধ্যে সামরিক সক্ষমতার বৈষম্য স্পষ্ট। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে রয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার সেনা, যেখানে আফগানিস্তানের সেনা সংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৭২ হাজার। পাকিস্তানের হাতে আছে অন্তত ছয় হাজার সাঁজোয়া যান এবং ৪ হাজার ৬০০ কামান। আফগানিস্তানের সামরিক যন্ত্রপাতি তুলনামূলকভাবে কম এবং অধিকাংশ সোভিয়েত আমলের পুরোনো সাঁজোয়া যান।
আকাশ শক্তিতে পাকিস্তানের অবস্থান অনেক শক্তিশালী। তাদের রয়েছে ৪৬৫টি যুদ্ধবিমান এবং ২৬০টি হেলিকপ্টার, যেখানে আফগানিস্তানের কোনো আধুনিক যুদ্ধবিমান নেই। কিছু পুরোনো বিমান ও হেলিকপ্টার আছে, তবে এগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।
পারমাণবিক শক্তিতে পাকিস্তান এগিয়ে। দেশটির হাতে আছে ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড, যা দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আফগানিস্তানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পারমাণবিক বৈশিষ্ট্য পাকিস্তানকে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা এবং কূটনৈতিক আলোচনায় শক্তিশালী অবস্থান প্রদান করছে।
দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য দুই দেশের সামরিক সংঘর্ষ উদ্বেগজনক। সীমান্ত এলাকায় চলমান হামলা ও পাল্টা হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়ছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সময়ের দাবি।
এদিকে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আফগানিস্তানের সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ব্যবস্থা দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা প্রভাবিত করতে পারে। সীমান্ত এলাকায় চলমান উত্তেজনা কেবল স্থানীয় নয়, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলছে।
সূত্র: আলজাজিরা