স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু।
হাসপাতালে পৌঁছে তিনি প্রথমে বেগম সেলিমা রহমানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আন্তরিকভাবে জানতে চান এবং পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহমর্মিতা জানান। পরে তিনি দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত সার্বিক অগ্রগতি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চলমান চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন।
চিকিৎসকরা জানান, বেগম সেলিমা রহমান বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান রয়েছে। চিকিৎসা টিম তাঁর শারীরিক অবস্থার নিয়মিত আপডেট পর্যালোচনা করছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু দায়িত্বরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয়ের আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের স্বাস্থ্যগত বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্বের অংশ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেগম সেলিমা রহমানের শারীরিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাঁরা নিয়মিতভাবে তাঁর চিকিৎসা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। পরিবারও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা মেনে চলছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে বেগম সেলিমা রহমান দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর অসুস্থতার খবর প্রকাশের পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিভিন্ন পর্যায় থেকে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর আরোগ্য কামনায় শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসকের এই সফরকে রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকা সত্ত্বেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া সৌজন্যমূলক ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পারস্পরিক সৌজন্য ও মানবিক সম্পর্ক বজায় রাখা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। অসুস্থতা বা ব্যক্তিগত সংকটের মুহূর্তে দল-মত নির্বিশেষে সহমর্মিতা প্রকাশ রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচায়ক।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত আরোগ্য লাভ সম্ভব হয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর অবস্থা নিয়ন্ত্রিত এবং চিকিৎসায় ইতিবাচক সাড়া মিলছে। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে ধাপে ধাপে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন। দলীয় সূত্র বলছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই সফর দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সৌজন্য ও মানবিকতার একটি বার্তা বহন করছে। দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে একজন অসুস্থ রাজনৈতিক নেত্রীর খোঁজখবর নেওয়া রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।