আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার ঘটনায় কঠোর নিন্দা জানিয়েছে ভারত। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পরিপন্থী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার কঠোর নিন্দা জানায় ভারত।”
মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে দেওয়া পোস্টে রণধীর জয়সওয়াল উল্লেখ করেন, পবিত্র রমজান মাসে পরিচালিত এই হামলায় বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের হামলাকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে তিনি পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত করার আহ্বান জানান।
ভারত আফগানিস্তানের ভৌগলিক অখণ্ডতার প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা অন্য দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা পাকিস্তানের রয়েছে এবং আফগানিস্তানের ওপর বিমান হামলা সেই ধারাবাহিকতার অংশ। ভারত আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করছে বলেও জানান রণধীর জয়সওয়াল।
এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। গতকাল রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে পাক সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আফগান সেনারা। পাকিস্তানের দাবি, এই হামলার জবাব দিতেই রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। আজ শুক্রবারও সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সামরিক সংঘাতের প্রভাব শুধু সীমান্ত এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়াও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভারতের বিবৃতি সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক অবস্থানেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ইতোমধ্যে সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক পরিবেশে এই সংঘাত নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বড় শক্তিগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতের নিন্দা প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সংঘাত নিরসনে এখনো পর্যন্ত কোনো বহুপাক্ষিক বৈঠক বা আনুষ্ঠানিক আলোচনার ঘোষণা পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
সূত্র: আলজাজিরা