আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর অন্তত ২২টি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। এতে আফগানিস্তানের ২৭৪ সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি ইসলামাবাদের। একই সঙ্গে নিজেদের ১২ সেনা নিহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছে দেশটি।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আহমেদ শরীফ চৌধুরী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার রাতে। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে অবস্থানরত পাক সেনাদের ওপর সমন্বিত হামলা চালায় আফগান সেনারা। পাকিস্তানের দাবি, ওই হামলায় তাদের কয়েকজন সেনা হতাহত হন। এর আগে রোববার পাকিস্তান আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছিল। আফগানিস্তান জানায়, সেই হামলার জবাব দিতেই বৃহস্পতিবার রাতের আক্রমণ চালানো হয়।
আফগান বাহিনীর হামলার জবাবে রাত থেকেই পাল্টা অভিযান শুরু করে পাকিস্তান। রাজধানী কাবুলসহ অন্তত চারটি প্রদেশে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলাগুলো ছিল নির্দিষ্ট সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে। তবে এসব হামলায় বেসামরিক হতাহতের কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইংয়ের মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আফগানিস্তানে অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের ঘোষণার পর আফগানিস্তানের সেনাপ্রধান ফাসিউদ্দিন ফিত্রাত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান যদি সামনে আরও হামলা চালায়, তাহলে তার জবাব আরও শক্তিশালী ও জোরালোভাবে দেওয়া হবে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি এবং পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলা সীমান্ত পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তুলেছে। সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই সংঘাত নিরসনে আনুষ্ঠানিক সংলাপের ঘোষণা আসেনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার এই উত্তেজনার দিকে। পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে তা বৃহত্তর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।