আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
রাশিয়ার সাইবেরিয়ার বৈকাল হ্রদ থেকে সাত চীনা পর্যটক ও এক রুশ চালকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটে গত শুক্রবার, যখন বরফে ঢাকা হ্রদটির ওপর চলার সময় তাদের বহনকারী মিনিবাসটি হঠাৎ ভেঙে তলিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, মিনিবাসটি হ্রদের প্রায় ৫৯ ফুট (প্রায় ১৮ মিটার) গভীরে ডুবে যায়। উদ্ধারকারী ডুবুরিদের পানির নিচে ব্যবহারযোগ্য বিশেষ ক্যামেরার মাধ্যমে বাস ও লাশ খুঁজে বের করতে হয়েছে। দুর্ঘটনার পর খবরটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি প্রচার করেছে।
বিশ্বের গভীরতম হ্রদ হিসেবে পরিচিত বৈকালের সর্বোচ্চ গভীরতা ১ হাজার ৬৪২ মিটার (৫ হাজার ৩৮৭ ফুট)। শীতকালে হ্রদের পানি প্রায় সম্পূর্ণ বরফে ঢাকা থাকে। এই সময়ে বরফ ভাঙার কারণে নানা দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, তবু বৈকাল পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় ভ্রমণকেন্দ্র।
রাশিয়ার ইরকুতস্ক শহরের গভর্নর ইগর কোবজেভ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “মিনিবাসটি শুক্রবার প্রায় তিন মিটার চওড়া বরফের ফাটলে পড়ে যায়। এই মুহূর্তে হ্রদের বরফের ওপর ভ্রমণ শুধু নিষিদ্ধ নয়, প্রাণঘাতীও।”
গভর্নর কোবজেভ আরও বলেন, “পর্যটকরা বৈকালে ভ্রমণ করার সময় শুধুমাত্র অনুমোদিত ভ্রমণ পরিচালনাকারীর সঙ্গে চলুন। অন্য কোনও ব্যক্তির সহায়তা নেওয়া বিপজ্জনক এবং এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।”
স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই হ্রদের বরফে চলাচলের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। তারা পর্যটকদের সতর্ক করেছেন, বৈকাল হ্রদের শীতকালে বরফের শক্তি অপ্রত্যাশিতভাবে কমে যেতে পারে এবং হঠাৎ ফাটল সৃষ্টি হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈকাল হ্রদে পর্যটন খুবই জনপ্রিয় হলেও শীতকালে পর্যটন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরও কঠোর নিয়ম প্রণয়ন করা জরুরি। রাশিয়ার প্রশাসনও এই ঘটনার পর সতর্কতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
এই দুর্ঘটনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটন নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে, চীনা পর্যটকরা সাইবেরিয়ার এই অঞ্চলে ভ্রমণ করার আগে স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হবার প্রয়োজনীয়তা আছে।
পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য বৈকাল হ্রদে নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা এবং অননুমোদিত স্থানগুলোতে প্রবেশ রোধ করা এখন প্রশাসনের মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি