আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ৭২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ আটকাতে দেশটির চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা এবং প্রাণী বিশেষজ্ঞরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন।
গতকাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, মূলত খাঁচায় বন্দি থাকা বাঘই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। চিড়িয়াখানার কর্মীরা বাঘের খাঁচায় জীবাণুনাশক ব্যবহার করছেন এবং বেঁচে থাকা প্রাণীগুলিকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন।
ঠিক কোন ভাইরাসে এত বাঘের মৃত্যু হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। থাইল্যান্ডের আঞ্চলিক চিয়াং মাই প্রাণী অফিস থেকে বলা হয়েছে, বাঘগুলোর মৃত্যুর জন্য ক্যানিন ডিসটেম্পার ভাইরাসের সম্ভাবনা আছে। এছাড়া প্রাণীবিদরা মাইকোপ্লাসমার উপস্থিতিও শনাক্ত করেছেন মৃত বাঘের দেহে।
থাই কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাণীসম্পদ বিভাগের মহাপরিচালক সোমচুয়ান রতনমুঙ্গলাকানন জানিয়েছেন, মৃত্যু হওয়া বাঘগুলো ফেলিন পেনলিউকোপেনিয়াতে আক্রান্ত ছিল। তিনি বলেন, অসুস্থ বাঘদের শেষ মুহূর্তে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বিশ্লেষণ করে বলেন, “যখন কোনো কুকুর বা বিড়াল অসুস্থ হয়, তখন তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া যায়, কারণ এগুলো মানুষের কাছে থাকে। কিন্তু মানুষ বাঘের কাছাকাছি থাকে না। ফলে অসুস্থতা শনাক্ত করতে সময় লাগে। যখন তা বোঝা যায়, তখন অসুস্থ বাঘের অবস্থা গুরুতর হয়ে যায়।”
চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা এবং প্রাণীবিদরা রোগের বিস্তার রোধে বাঘদের আলাদা খাঁচায় রাখা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও ভ্যাকসিন প্রয়োগের ব্যবস্থা করছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বন্য বাঘ এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
সংক্রমণ রোধে চিড়িয়াখানার ব্যবস্থাপনা দল সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাঘের শরীরের প্রতিক্রিয়া মনিটর করা এবং সংক্রমিত পশুর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ কমানো এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সরকারি সূত্র জানায়, এই ভাইরাস মানুষের জন্য সরাসরি হুমকি নয়। তবে প্রাণীবিদরা সতর্ক করেছেন, সংক্রমণ অন্য পশুর মধ্যে দ্রুত ছড়াতে পারে এবং স্থানীয় পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বাঘ সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনলে বাকি বাঁচা বাঘগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান