আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা বলেছেন, দেশটি নতুন কোনও স্নায়ুযুদ্ধ চায় না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে রোববার নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন বিশ্বের সব দেশকে সমানভাবে দেখা হয়।
লুলা বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলতে চাই, আমরা নতুন কোনও স্নায়ুযুদ্ধ চাই না। আমরা অন্য কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। আমরা চাই সব দেশকে সমানভাবে দেখা হোক।” তিনি জানান, এটি ব্রাজিলের নীতি ও কূটনৈতিক অবস্থান প্রতিফলিত করে।
আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার প্রত্যাশা করছেন ব্রাজিলের এই প্রেসিডেন্ট। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে বাণিজ্য, অভিবাসন, বিনিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
ব্রাজিলের এই বামপন্থী নেতা বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্পের সঙ্গে নানা বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের আরোপিত শুল্ক, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক করা, এবং ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনকে সমালোচনা করেছেন। তবে এই বৈঠক উভয় দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত বৈশ্বিক শুল্ক বাতিলের রায়ের বিষয়ে লুলা মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। রায়ের পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ভিন্ন একটি আইনের আওতায় নতুন করে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন।
লুলা এ বিষয়ে বলেন, “আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের সম্পর্ক আরও ভালো অবস্থানে যাবে।” তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও শিক্ষামূলক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লুলার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্রাজিলের স্থিতিশীল ও নিরপেক্ষ ভূমিকাকে প্রমাণ করছে। তিনি শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে সংলাপ এবং সমঝোতার ওপর জোর দিচ্ছেন, যা দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে রাখবে।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক, শিক্ষামূলক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন শুল্ক, বিনিয়োগ এবং অভিবাসন বিষয়গুলোতে সমঝোতা উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স