আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এখন সরাসরি ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের নিয়ন্ত্রণে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
গতকাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সংবাদমাধ্যম আলআরাবিয়া এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কিছু কর্মকর্তা সম্প্রতি লেবাননে গেছেন এবং তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনায় সহায়তা করার।
বিপ্লবী গার্ডের কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছেন। সম্প্রতি বাক্কা উপত্যকায় হিজবুল্লাহর মিসাইল ইউনিটের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারা। এই সময়ই ইসরায়েল একটি বিমান হামলা চালায়, যার ফলে হিজবুল্লাহর অন্তত ৮ জন যোদ্ধা নিহত হন।
হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় ইসরায়েল যে কোনো সময় বড় ধরনের অভিযান শুরু করতে পারে বলে দাবি করেছেন নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র। গত এক মাস ধরে ইরানের চারপাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়াচ্ছে। মার্কিন সেনাদের হামলার সম্ভাবনা থাকায় ইরানও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরান তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিজবুল্লাহকে শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডাররা হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও স্ট্র্যাটেজিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। লক্ষ্য হচ্ছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করে, তাহলে হিজবুল্লাহ তার জবাব দিতে সক্ষম হবে।
ইসরায়েলি সংবাদ সংস্থা কান পাবলিক ব্রডকাস্টার জানিয়েছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দারা হিজবুল্লাহর রকেট ইউনিটের কার্যক্রম বৃদ্ধির আলামত পেয়েছেন। তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার সময় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে রকেট হামলা চালাবে।
এদিকে, হিজবুল্লাহর সামরিক প্রস্তুতি ও বিপ্লবী গার্ডের তত্ত্বাবধান ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়াবে এবং ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘর্ষের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করবে।
ইরানের এই পদক্ষেপ মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়ার মুখে তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় হিজবুল্লাহর প্রস্তুতি ও শক্তিশালীকরণ এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামরিক ভারসাম্যকে পরিবর্তন করতে পারে।
সূত্র: আলআরাবিয়া।