অনলাইন রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী শাসনের অবসানের পর আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশজুড়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এবারের নির্বাচনে দেশে ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি অত্যন্ত উল্লিখনযোগ্য। বহু বছর ধরে নারী ভোটাররা নিরাপত্তা ও কেন্দ্রে সুবিধার অভাবে ভোট দিতে দ্বিধা করতেন। তবে এবারের নির্বাচন ভিন্ন। নারীরা ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত ও উদ্দীপ্ত, ভোটকেন্দ্রগুলোতে তাদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ার মতো।
বরিশালের একটি কেন্দ্রে দেখা গেছে, ভোটাররা ভোটগ্রহণ শুরুর আগে সুসংগঠিতভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। নির্বাচনি কর্মকর্তারা কেন্দ্রের ভেতরে ব্যালট বাক্স সিলগালা, কাগজপত্র যাচাইসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পর ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। নারীদের উপস্থিতি অত্যন্ত বেশি এবং তাদের উৎসাহ কেন্দ্রের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করছে।
রাঙ্গামাটিতে সকাল থেকে ভোটারদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। ভোট কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এখনও পর্যন্ত কোথাও বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ এবং আনুষঙ্গিক নিরাপত্তা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আফরোজা খানম রিতা নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে মানিকগঞ্জ-১ ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোটদান সম্পন্ন করেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনটি আসনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নারীদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় তুলনামূলকভাবে তাদের ভোট প্রদানও বেশি।
ঝালকাঠি ও নোয়াখালীর ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার জন্য বহু নারী ভোটার আগেভাগে কেন্দ্রের মাঠে উপস্থিত ছিলেন। কবিরহাট সরকারি কলেজ কেন্দ্রেও বিপুলসংখ্যক নারী ভোটারকে দেখা গেছে। নড়াইলে শীতের সকাল উপেক্ষা করেও ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। কুমিল্লার ১১ আসনের ভোটকেন্দ্রেও নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের পর্যবেক্ষণ রয়েছে।
কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের চেয়ারপারসন ও ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আড্ডো জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং তারা আশা করছেন, সারাদেশে এভাবে ভোট চলবে।
এই নির্বাচনকে ঘিরে নারীদের অংশগ্রহণের চিত্র অত্যন্ত ইতিবাচক। দীর্ঘদিন পর নারী ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছেন। ভোট কেন্দ্রগুলোতে সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করছেন। কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটের আনুষ্ঠানিকতা, ব্যালট বাক্স সিলগালা এবং কেন্দ্রীয় তত্ত্বাবধান সবই সুষ্ঠু ভোটপ্রক্রিয়াকে নিশ্চিত করছে।
এছাড়া ভোট কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য প্রশাসন, পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোথাও কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। ভোটারের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকল কেন্দ্রেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের এই পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশ নারীদের ভোটার হিসাবে ক্ষমতায়ন এবং দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে তুলে ধরছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে নারীদের উপস্থিতি বাড়ায় ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং উৎসবমুখর পরিবেশ আরও দৃঢ় হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দীর্ঘদিন পর নারীরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারছেন এবং তাদের উপস্থিতি ভোটকেন্দ্রের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত ও উৎসাহব্যঞ্জক করেছে। ভোটাধিকার প্রয়োগে নারীদের এই অংশগ্রহণ দেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।