চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম ডিসি পার্কে আয়োজিত দেশের বৃহত্তম মাসব্যাপী ফুল উৎসবকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সুপরিকল্পিত কর্মযজ্ঞের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক ও তাঁর সহযোগীবৃন্দের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এ আয়োজন বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সারাদেশে এই উৎসবের খবর ছড়িয়ে পড়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
সিনিয়র সচিব আরও বলেন, “আজ আমরা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞের অংশ। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অত্যন্ত উচ্চমানের আয়োজন করা হয়েছে, যা মাসব্যাপী চলবে। চট্টগ্রাম সফরের এই সুযোগে এমন একটি বড় ও ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত।” তিনি বলেন, একসময় দেশকে ‘বারো মাসের তেরো পাবন’ বলা হতো, এখন দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে উৎসবমুখর ও আনন্দময় করে তোলায় সবাই দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনি নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে সাগরপাড়ে অবস্থিত ১৯৪ একর আয়তনের ডিসি পার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে “চট্টগ্রাম ফুল উৎসব–২০২৬”। এতে মাসব্যাপী দেশি ও বিদেশি প্রায় ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুল প্রদর্শিত হবে। এবছর নতুন আকর্ষণ হিসেবে দর্শনার্থীদের জন্য যুক্ত হয়েছে জিপ লাইন, ক্লাইম্বিং ট্রি, ট্রি হার্ট, বিগ ফ্লাওয়ার ট্রি, আমব্রেলা ট্রি ও ফ্লাওয়ার টানেল। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
উৎসবের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, ভিআর গেম, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ ও মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে সচেতনতামূলক স্টল স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থান কর্নারও দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।
সিনিয়র সচিব বলেন, “এটি শুধু চট্টগ্রামের জন্য নয়, সারাদেশের মানুষের জন্য আনন্দের বিষয়। দেশের অন্যান্য জেলা থেকেও মানুষ ডিসি পার্কে এসে নির্মল আনন্দ উপভোগ করবে। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য জেলার জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ সাধারণ দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, প্রতিদিন অর্ধলক্ষাধিক দর্শনার্থীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ফুল উৎসব চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।