আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী বর্তমানে বড় ধরনের হুমকির মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অস্থির হয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার। হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার চীনের সহায়তা চেয়েছেন।
স্থানীয় সময় রোববার (১৫ মার্চ) ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি চীনেরও এগিয়ে আসা উচিত, কারণ তাদের তেলের ৯০ শতাংশ এই প্রণালীর মাধ্যমে আসে।” তিনি আরও যোগ করেন, বেইজিং সফরের আগে চীনের অবস্থান পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। ট্রাম্প জানান, “আমরা সফরটি পিছিয়ে দিতে পারি যদি প্রয়োজন হয়।”
ইরানের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ন্যাটো মিত্রদের সতর্কও করেছেন। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখতে তাদের সহায়তা না করলে পরিস্থিতি খুবই খারাপ হতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক ও সামরিক নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য ট্রাম্প বলেছেন, সুবিধাভোগী দেশগুলোর উচিত মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এখানে পাহারায় অংশ নেওয়া।
ট্রাম্পের এ বিষয়ে প্যারিসে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের মধ্যে দুই দিনব্যাপী আলোচনা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সহায়তায় মাইন-সুইপার জাহাজ, ড্রোন এবং নৌ-মাইন মোকাবিলার জন্য অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ট্রাম্প বলেন, “ইরানের ওপর আমরা চরম আঘাত হানছি। প্রণালিতে কিছুটা ঝামেলা ছাড়া তাদের আর কিছু করার নেই।”
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে আরও হামলা চালানো হতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা পাঁচ মিনিটের মধ্যে সেখানে আঘাত করতে পারি এবং তা ঠেকানোর ক্ষমতা তাদের নেই।”
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি ব্রিটেনের ভূমিকা সমালোচনা করে বলেন, “যুক্তরাজ্যকে এক নম্বর মিত্র ভাবা হয়, অথচ আমি যখন তাদের সাহায্যের আহ্বান জানালাম, তারা তা করতে চাইল না।”
এই অবস্থায় হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য ট্রাম্প চীনের সরাসরি সহায়তা কামনা করেছেন। হোয়াইট হাউস বা চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।