আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মিত্রদেশগুলো যদি হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা না করে, তবে তা ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য খুবই খারাপ হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি মিত্রদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। তাই এ পথকে নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র একা দায়িত্ব নিতে চায় না; বরং মিত্রদেশগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করে। সে কারণে এই নৌপথের নিরাপত্তা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং বহু দেশের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। ট্রাম্প জানান, তিনি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, যদি এসব দেশ হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায় সহযোগিতা না করে, তবে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোট ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্যও নেতিবাচক বার্তা দেবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মিত্ররা দায়িত্ব এড়িয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি মনে রাখবে।
এদিকে সোমবার জাপান ও অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পাহারা দেওয়ার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না। এ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি আশা করেন চীনও এই প্রণালীকে মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা করবে। কারণ চীন তাদের আমদানি করা তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই পথ দিয়ে পায়। তিনি ইঙ্গিত দেন, যদি চীন সহযোগিতা না করে, তবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং–এর সঙ্গে তার সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, রাষ্ট্রপ্রধানদের কূটনৈতিক যোগাযোগ চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের সম্ভাব্য সফর নিয়ে দুই দেশ যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি জানান।
ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান প্রসঙ্গে লিন জিয়ান বলেন, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা বাণিজ্যিক নৌপথকে ব্যাহত করছে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, তিনি প্রায় সাতটি দেশের সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ এসকর্ট করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। তিনি বলেন, যদি এসব দেশ সহায়তা না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তা মনে রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সীমিত স্থল অভিযান শুরু করেছে। একই সময়ে তেহরানে ভারী বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ইরান ও হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা কয়েক ডজন ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সংঘাত বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: বিবিসি