অনলাইন রিপোর্টারঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২৯৯টি আসনের মধ্যে বেসরকারি ফলাফলে এখন পর্যন্ত ১৮১টি আসনে জয় পেয়েছে দলটির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীরা। এ ফলাফলে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে এবং নতুন মেয়াদে সরকার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
জয়ী ১৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি থেকে ছয়জন নারী প্রার্থী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাচ্ছেন। পাশাপাশি একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সব মিলিয়ে সাত নারী প্রার্থীর বিজয় দলটির রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের উপস্থিতিকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজয়ী নারী প্রার্থীরা হলেন—মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খান রিতা, ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ কামাল, নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন পুতুল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারী প্রার্থীদের এ সাফল্য ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে নারীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহ জোগাবে। বিশেষ করে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয় অর্জন নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলটির ভেতরেও নারী নেতৃত্বের বিকাশে এ ফলাফল নতুন গতি আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফলে বিএনপির নিরঙ্কুশ অগ্রগতি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের দিকে। একই সঙ্গে নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যদের ভূমিকা ও আইন প্রণয়নে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কেমন হবে, সেটিও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।