আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক (আইআরআই) গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। রোববার এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, এসব অভিযানে ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে শত্রু ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর পর থেকে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে গেছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর ইরান দ্রুত পাল্টা হামলা শুরু করে এবং ইরানপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীও তাদের প্রভাব বিস্তার করতে মাঠে নেমেছে।
আইআরআই-এর এই সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ছিল শত্রুপক্ষের কৌশলগত স্থাপনা, সেনা ঘাঁটি এবং সরবরাহ চেইন। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা পূর্ব পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত আক্রমণ চালিয়েছে, যা শত্রুর অবস্থান নষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইআরআই-এর হামলা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। ইরানপন্থি এই গোষ্ঠীগুলো মূলত ইরানের কৌশলগত প্রভাব বজায় রাখতে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলীয় হামলার জবাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কাজ করছে। গোষ্ঠীর সামরিক কার্যক্রম জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবেও প্রভাব ফেলছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে যেকোনো ধরণের হামলার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহকে বিপর্যস্ত করতে পারে।
আইআরআই-এর সামরিক অভিযানই প্রমাণ করছে, ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো কেবল ইরাকেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাদের সক্রিয়তা বাড়িয়ে চলেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের হামলা ভবিষ্যতে আরও জটিল আন্তর্জাতিক সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে।
এর পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যদি কূটনৈতিক সমাধান না হয়, তাহলে এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোর পরিস্থিতি যেমন জটিল, তেমনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সমন্বিত নিরাপত্তা পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।