মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ওপর মার্কিন হামলার ফলে দেশটির সামরিক ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্লোরিডায় শনিবার এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষভাবে, মার্কিন বাহিনী ৪২টি ইরানি নৌযান ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
ট্রাম্প আরও জানান, হামলাগুলো শুরুতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নেয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, সেই স্থাপনাগুলো তেহরান পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়ার আগেই ধ্বংস করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও সামরিক শক্তি সীমিত করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। হামলাগুলোর ফলে ইরানের বিমানবাহিনী ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার বেশিরভাগ অংশ কার্যত অচল হয়ে গেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা ইরানের সামরিক অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে কার্যকর ক্ষতি করতে পেরেছি।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরণের দাবি দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ দাবি সম্পর্কে মন্তব্য করেনি। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে, এবং পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর কাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সূত্র জানায়, হামলার মাধ্যমে ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতা অর্ধেকের বেশি হ্রাস পেয়েছে। এতে সামরিক ভারসাম্য ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশ্বে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর এলাকায় তেলের সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।