যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন। তবে এ বিষয়ে এখনো চীন বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী চীন সম্ভাব্যভাবে ইরানকে আর্থিক সহায়তা, সামরিক খুচরা যন্ত্রাংশ এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কিছু উপাদান সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও বেইজিং এখনো সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি এবং বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থানও জানায়নি।
মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানি তেলের ওপর চীনের উল্লেখযোগ্য নির্ভরশীলতা রয়েছে। সে কারণে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা নিশ্চিত করতে তেহরানের ওপর চাপ দিতে পারে বেইজিং।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, চীন তাদের সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, চীন সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চায় না। বরং তারা এই যুদ্ধের দ্রুত অবসান চায়, কারণ দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত তাদের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। এই পথ নিরাপদ না থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
এদিকে এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া। তবে এই বিষয়ে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ বিষয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করতে রাজি হননি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের রাজনৈতিক ও অন্যান্য দিক দিয়ে সাহায্য করছে।’ তবে সামরিক সহায়তার বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন ও রাশিয়া উভয়ই কৌশলগতভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তারা প্রকাশ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে না চাইলেও কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ইরানের পাশে থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। তবে এখন পর্যন্ত এই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের কেউই ইরানকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেয়নি।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি চীন বা রাশিয়া সরাসরি ইরানকে সামরিক সহায়তা দেয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।