প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে হামলা না হলে তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো আক্রমণ চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে ইরান নতুন নীতিগত অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে যদি ইরানের ওপর কোনো হামলা না হয়, তাহলে সেসব দেশের বিরুদ্ধে ইরানও আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না।
প্রেসিডেন্টের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ইরান।
মাসুদ পেজেশকিয়ান আরও বলেন, বিগত কিছু সময়ে সংঘটিত সামরিক হামলা এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে পারস্পরিক সংলাপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়টি দেশের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিরক্ষা নীতির পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগও জোরদার করা হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরান কোনো দেশের সঙ্গে অযথা সংঘাতে জড়াতে চায় না। বরং পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে ইরানের ভূখণ্ড বা স্বার্থের ওপর যদি কোনো ধরনের হামলা বা হুমকি আসে, তাহলে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে ইরান কূটনৈতিক সংলাপ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারের পক্ষে কাজ করতে চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর ক্ষেত্রে এই বক্তব্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে দুঃখপ্রকাশ এবং ভবিষ্যতে আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।