অনলাইন রিপোর্টারঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ আসন জিতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর বিএনপি আবার ক্ষমতায় ফিরছে। মাঠপর্যায়ের বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের জোটভুক্ত প্রার্থীরা মোট ২০৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন। তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী ছিলেন এবং দুটি আসনেই জয়ী হয়েছেন। বিএনপি ইতিমধ্যেই তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মারা যাওয়ায় ভোট স্থগিত করা হয়েছিল। বেসরকারিভাবে ২৮৮টি আসনের ফলাফল পাওয়া গেছে, যেখানে বিএনপি ও জোটভুক্ত দলের প্রার্থীরা ২০৭টি আসন জিতেছে। জামায়াতে ইসলামী ও জোটভুক্ত দলের প্রার্থীরা ৭৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন জিতেছে এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থীরা সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। বাকি আসনেও বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা নিশ্চিত বলে জানানো হচ্ছে।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত বিএনপি জনসমর্থন নিয়ে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ভোটের হিসাব ও আসনভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে আমরা আত্মবিশ্বাসী যে বিএনপি আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা হবে। বিএনপি সরকারে আসার পর দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক নীতিমালায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। নির্বাচনের প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হয়েছে। ভোটাররা নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে অবাধভাবে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করেছে ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা নির্বাচনী এলাকা নিরাপদ রেখেছে।
এই নির্বাচনে জনগণ অংশগ্রহণে উজ্জীবিত ছিল। ভোটাররা তাদের স্বাধীন মত প্রকাশ করেছেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উঁচু ভোটার অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জাগরণ ও দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দেশজুড়ে বিএনপির সমর্থকরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তবে বিজয়ী দল শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে। দলের নেতা-কর্মীরা জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্থানীয়ভাবে সাফল্যের উদযাপন করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এ নির্বাচনকে সফল ও শান্তিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিএনপি সরকারের প্রধান লক্ষ্য হবে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এই সরকার দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপিকে দেশের জন্য বৃহৎ নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষমতা দেবে। দলের নেতৃত্ব জনগণের কল্যাণ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করবে।
নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং বিএনপির ব্যাপক জনসমর্থন দেশকে নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। দুই দশক পর সরকারে আসার এই বিজয় বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে লেখা হবে।