স্টাফ রিপোর্টারঃ
একটি মহল আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে একটি চক্র ভেতরে ভেতরে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় তিনি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবং আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৬ বছরে দেশের মানুষ কয়েকটি তথাকথিত নির্বাচন প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি নিশিরাতের নির্বাচন ও গায়েবি নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ওই সময় দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “পেরেছিলেন আপনারা ভোট দিতে? পারেননি আপনারা ভোট দিতে।” তারেক রহমান আরও বলেন, যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা আজ আর ক্ষমতায় নেই।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই আরেকটি মহল নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। কীভাবে এই নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়, কীভাবে বাধাগ্রস্ত করা যায়—সেই চিন্তায় তারা ভেতরে ভেতরে অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন যাতে কেউ বানচাল করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
এর আগে সারাদেশে নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে আকাশপথে রাজশাহী পৌঁছান তারেক রহমান। রাজশাহী বিমানবন্দরে পৌঁছে তিনি সড়কপথে শহরের ঐতিহাসিক সুফি সাধক শাহ মখদুম (র.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন।
জনসভার কার্যক্রম শুরু হয় সকাল সাড়ে ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। নির্ধারিত সময়ের আগেই বেলা সাড়ে ১২টার মধ্যে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়। আশপাশের মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা মিছিল নিয়ে জনসভায় অংশ নেন।
জনসভাস্থলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দীর্ঘদিন পর রাজশাহীতে দলের শীর্ষ নেতার জনসভাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে বলে উপস্থিত অনেকেই জানান।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন চায়। জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারই দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে। তিনি বলেন, জনগণের এই আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করতে একটি গোষ্ঠী এখনও সক্রিয় রয়েছে, যা দেশের জন্য শুভ নয়।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। তবে কোনো ষড়যন্ত্র বা অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তিনি।
রাজশাহীর জনসভা শেষে তারেক রহমান সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। পথে বিকেলে নওগাঁর এটিম মাঠে একটি নির্বাচনি জনসভায় তিনি বক্তব্য দেবেন। এরপর সন্ধ্যায় নিজ নির্বাচনি এলাকা বগুড়া শহরের আলফাতুন্নেসা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত আরেকটি জনসভায় অংশ নেবেন এবং সেখানে নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজশাহীর এই জনসভা বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচনি বার্তা পৌঁছাবে বলে তারা মনে করছেন।