অনলাইন রিপোর্টারঃ
বিএনপি চেয়ারম্যানের নির্বাচনি প্রচারণা শুরু ২২ জানুয়ারি
দুই দশক পর সিলেট সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২০০৫ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে সিলেটে এসেছিলেন। এবার আসছেন দলের চেয়ারম্যান হিসেবে। ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাধারণত দুই প্রখ্যাত ওলি হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করতেন। তার অনুপস্থিতিতে এবার তারেক রহমানও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।
সিলেটে দলের নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের সফরকে স্বাগত জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যেও সফর নিয়ে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “২২ জানুয়ারি সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হচ্ছে। এদিন সিলেটে দুই ওলির মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবেন আমাদের চেয়ারম্যান। ১৯৯১ সালের পর বিএনপি যতগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, সবগুলোর প্রচারণা সিলেট থেকে শুরু হতো। সেই ধারাবাহিকতা এবার তারেক রহমানও বজায় রাখছেন।”
তিনি আরও বলেন, “সিলেটের মানুষ সৌভাগ্যবান যে দলের চেয়ারম্যান সিলেট থেকে প্রচারণা শুরু করছেন। এছাড়া তার সিলেটের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। অতিথিপরায়ণ হিসেবে সিলেটের খ্যাতি সর্বত্র। প্রিয় আত্মীয় ও দলের চেয়ারম্যানকে বরণ করতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উন্মুখ হয়ে আছেন।”
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিলেট সফর কর্মসূচি সফল করতে দলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিএনপি নেতা জানান, মঙ্গলবার সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিএনপি দলীয় এমপি প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে তারেক রহমানের সমাবেশে লোক সমাগম, নিরাপত্তা, জনসমাবেশের কার্যক্রম এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান ২০০৫ সালে সর্বশেষ সিলেট সফর করেন। সে সময় তিনি সিলেট স্টেডিয়ামে একটি বড় কর্মী সমাবেশে যোগ দেন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘটে। ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান দলীয় চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারম্যান ২১ জানুয়ারি রাতে সিলেটে পৌঁছাবেন। পরদিন ২২ জানুয়ারি হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবেন।
২১ জানুয়ারি তিনি আকাশপথে সিলেটে পৌঁছাবেন। ২২ জানুয়ারি সকালে মাজার জিয়ারত শেষে বেলা ১১টায় সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার মনোনয়নপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য প্রার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।
জনসভা শেষে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। পথে মৌলভীবাজারের শেরপুর এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আরও দুটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। এসব সমাবেশে সংশ্লিষ্ট জেলার বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করানো হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। পরদিন ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে।
তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে সিলেটে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনি প্রচারণার জনসভায় ব্যাপক জনসমাগম নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, বেলা ৩টায় লামাবাজার এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সমাবেশের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রচার কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। দলের স্থানীয় নেতারা এই সভায় অংশ নেবেন এবং সমাবেশের সময়সূচি চূড়ান্ত করবেন।
সিলেটে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময় পর দলের চেয়ারম্যান আসছেন এবং নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করছেন বলে নেতাকর্মীরা উৎসাহিত। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সিলেটে তার আগমনকে স্বাগত জানাচ্ছে। শহরের বিভিন্ন অংশে তার আগমনের প্রস্তুতি চলছে।
দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমানের এই সফর শুধুমাত্র নির্বাচনি প্রচারণা নয়, এটি দলের জন্য নতুন উদ্দীপনা জোগাবে। তিনি দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, প্রার্থী এবং নির্বাচনী কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি পরামর্শ করবেন। এছাড়া পথসভা, জনসভা এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সিলেট ও সুনামগঞ্জের ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবেন।
দলীয় নেতারা মনে করছেন, এই সফর দলের কর্মীদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক এবং জনসভা তাকে ভোটারদের সামনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ দেবে। সিলেট ও আশেপাশের অঞ্চলের মানুষও এই সফরের মাধ্যমে বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে।
দলের অন্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও প্রস্তুতি শুরু করেছে। সিলেটে জনসমাবেশের নিরাপত্তা ও বিশৃঙ্খলা রোধে দলীয় কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জনসভায় অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সুষ্ঠু সমাবেশ নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় কমিটি এবং জেলা বিএনপির কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
এই সফরের মাধ্যমে তারেক রহমান সিলেট এবং আশেপাশের অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবেন। এছাড়া এই সফরের লক্ষ্য জনগণের কাছে নির্বাচনি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা এবং দলের ভিশন ও নীতি তুলে ধরা।
সিলেটবাসীও এই সফরকে ঘিরে উদ্বুদ্ধ। শহরের বিভিন্ন অংশে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার, ফ্ল্যাগ, পোস্টার ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা শুরু হয়েছে। দলের স্থানীয় নেতারা এবং সমর্থকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাবেশে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
সমাবেশ শেষে তারেক রহমান ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। পথে আরও দুটি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন, যেখানে সংশ্লিষ্ট জেলার মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পরিচয় করানো হবে এবং নির্বাচনী নীতি ও পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করা হবে।