আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরানের রাজধানী তেহরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এক রাতেই গুলিতে ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন। সাময়িকীটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে তেহরানে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
টাইম ম্যাগাজিন শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরানের এক চিকিৎসক তাদের কাছে তথ্য দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র রাজধানীর ছয়টি হাসপাতালে অন্তত ২০৬ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর রেকর্ড রয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে ওই চিকিৎসক দাবি করেছেন। তিনি আরও জানান, নিহতদের বেশিরভাগই তরুণ বয়সী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে এবং অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে পড়েন। এর জবাবে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপকভাবে গুলি চালায়। ওই চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে মেশিনগান থেকে ব্রাশফায়ার করা হয়। সেখানে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হন, যাদের মধ্যে অনেকেই পরে মারা যান।
টাইম ম্যাগাজিন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে হাসপাতালগুলো থেকে নিহতদের মরদেহ দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। এতে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে সাময়িকীটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, তারা এই মৃত্যুর সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদি এই মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়, তাহলে এটি ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দমনে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সতর্কতাকে উপেক্ষা করার সামিল হবে। ট্রাম্প আগেই হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে খামেনি সরকারকে এর চড়া মূল্য দিতে হবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই সরকারবিরোধী আন্দোলন ইতোমধ্যে ইরানের অন্তত ৩১টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের ভয়াবহ সহিংসতার পর শুক্রবার রাতেও তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে এবং বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনা অব্যাহত থাকে।
টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর ভূমিকা দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে এই সহিংসতা ইরান সরকারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র- টাইমসের প্রতিবেদন