আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জাতিসংঘের সংস্থা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর আওতায় প্রায় ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা, এজেন্সি ও কমিশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনা পরিচালনাকারী জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি)।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, এই ৬৬টি সংস্থা, এজেন্সি ও কমিশনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন স্থগিত থাকবে। এর আগে তিনি এসব সংস্থার ভূমিকা ও অর্থায়ন পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রশাসনের দাবি, অনেক সংস্থা অপ্রয়োজনীয়, অপব্যবস্থাপনা বা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের পরিপন্থি। বেশিরভাগ সংস্থা জলবায়ু, শ্রম এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কাজে নিয়োজিত। রিপাবলিকান প্রশাসন এসব পদক্ষেপকে অগ্রাধিকারবিহীন উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও), ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা (ইউএনআরডব্লিওএ), জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এবং ইউনেসকোসহ একাধিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে গেছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং কর্মী সংখ্যায়ও প্রভাব পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার কাঠামো ইউএনএফসিসি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার জলবায়ু কেন্দ্রিক সংস্থাগুলো থেকে নাম প্রত্যাহারের সর্বশেষ পদক্ষেপ। এই কাঠামো প্যারিস জলবায়ু চুক্তির ভিত্তি। ট্রাম্প পূর্বেই প্যারিস চুক্তি থেকে সরে গিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় অর্থনীতি ও নিঃসরণকারী দেশ সহযোগিতা থেকে সরে গেলে বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগ ব্যাহত হবে।
বিশ্বব্যাপী যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের বিরোধিতার মুখে রয়েছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই সংস্থার অর্থায়ন বন্ধ করা হয়েছিল, পরবর্তীতে বাইডেন প্রশাসন পুনর্বহাল করেছে।
তাদের প্রত্যাহারের তালিকায় আরও সংস্থা রয়েছে, যেমন কার্বন ফ্রি এনার্জি কমপ্যাক্ট, ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটি এবং ইন্টারন্যাশনাল ট্রপিক্যাল টিম্বার অর্গানাইজেশন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বিষয়ে আরও পর্যালোচনা চলছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমালোচকরা বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগ, শিশু ও মহিলাদের স্বাস্থ্য সেবা, অভিবাসী ও মানবাধিকার সংস্থা প্রভাবিত হবে।
প্রতিনিধিদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রত্যাহার করলে কর্মী সংখ্যা কমতে পারে, কর্মসূচি স্থগিত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সংস্থাগুলো এমন পরিস্থিতিতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য নতুন অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা খুঁজছে।