আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার উদ্দেশ্যে দেশটিতে চালানো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় কমপক্ষে ১০০ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো।
কারাকাস সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের সংখ্যা আগে পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। তবে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী নিহত ২৩ সদস্যের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছে, মাদুরোর নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বড় অংশকে ‘ঠান্ডা মাথায়’ হত্যা করা হয়েছে।
কিউবারও জানা গেছে, ভেনেজুয়েলায় অবস্থানরত তাদের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মধ্যেও এই হামলায় কিছুজন নিহত হয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাবেলো আরও জানিয়েছেন, অভিযানের সময় মাদুরোর সঙ্গে থাকা তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস মাথায় আঘাত পেয়েছেন। মাদুরো নিজেও পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে, তাঁরা দুজনই গুরুতর আহত নন এবং চিকিৎসাধীন আছেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত তার সাপ্তাহিক অনুষ্ঠানে কাবেলো ভেনেজুয়েলার সেনাসদস্যদের সাহসী বলে প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, নিহত সেনাসদস্যদের স্মরণে গত মঙ্গলবার এক সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়েছে।
হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল এবং ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর এর প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই হামলা দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাবেলো বলেন, এই ঘটনায় নিহত এবং আহত সদস্যদের পরিবারের প্রতি সরকার পূর্ণ সহমর্মিতা প্রকাশ করছে। এছাড়া তিনি জনগণকে ধৈর্য্য ও ঐক্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ হামলায় স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং এর ফলশ্রুতির বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় গভীর নজর রাখছে।
এই ঘটনা ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও নিহত এবং আহতদের সংখ্যা ও হামলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা হামলার ন্যায্যতা এবং মানবিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সামগ্রিকভাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের ফলে ভেনেজুয়েলার সেনা ও সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নতুন করে সংকটের সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে।