আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও বলেছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয় সংক্রান্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন। তার বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্রিফিংয়ে মার্কো রুবিও বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল খাত যেন আরও বিশৃঙ্খলার দিকে ঝুঁকে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “ভেনেজুয়েলার তেল খাত বিশৃঙ্খলার দিকে ঝুঁকে পড়ুক— এমনটা আমরা চাই না। এ কারণে দেশটির তেল উত্তোলন, বিপণনসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা এখন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে।” তার এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে।
রুবিও আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি এই উদ্যোগকে ভেনেজুয়েলার তেল খাত সংস্কারের ‘প্রথম পর্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এবং সরকারের অনুমোদিত সংস্থা বা কোম্পানি ছাড়া অন্য কাউকে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে তেল উত্তোলন ও বিক্রয় ব্যবস্থাকে একটি কাঠামোবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল খাত দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক চাপের কারণে সংকটে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব না নিলে দেশটির জ্বালানি খাত আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, বর্তমান পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পকে স্থিতিশীল করার জন্য জরুরি।
মার্কো রুবিও আরও জানান, তেল খাত সংস্কারের কাজ শেষ হলে দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে। এই পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর কোম্পানিকেও ভেনেজুয়েলার তেল বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “তেল খাত সংস্কারের কাজ শেষে দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে। এই পর্যায়ে মার্কিন ও অন্যান্য পশ্চিমা কোম্পানিকে ন্যায্যভাবে ভেনেজুয়েলার বাজারে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, রুবিওর এই বক্তব্য ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও সুদৃঢ় করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকে স্পষ্ট করে তুলেছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য তেল নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
আন্তর্জাতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও রপ্তানি কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি বৈশ্বিক তেলের বাজারে সরবরাহ ও দামের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। ভেনেজুয়েলার তেল খাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ভবিষ্যতে কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।