আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। খবর বিবিসি’র। কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় চেষ্টা চালানোর পর অবশেষে বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাহাজটি মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং বৈশ্বিক রাজনীতি ও তেলবাজারে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযানের আগে রুশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র হেলিকপ্টার থেকে কমান্ডো নামিয়ে জাহাজটি দখল করার পরিকল্পনা করছে। পরে বাস্তবেও কঠোর সামরিক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে অভিযানটি চালানো হয়। এর আগে মার্কিন কোস্টগার্ড জাহাজটিকে থামানোর সংকেত দিলেও সেটির ক্রুরা তা অমান্য করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানানো হয়। এই অমান্য করার ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিযানের অন্যতম যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছে।
রাশিয়া এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রুশ পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী উন্মুক্ত সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে এবং অন্য দেশে নিবন্ধিত কোনো জাহাজের ওপর শক্তি প্রয়োগ করার অধিকার কোনো রাষ্ট্রের নেই। তাদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
তবে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘বেলা-১’ নামে পরিচিত এই ট্যাংকারটি ভেনিজুয়েলার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহন করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে পরিচালিত যেকোনো তেল পরিবহন কার্যক্রম বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে প্রতিহত করা হবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক জলসীমা কোনো বাধা নয় বলে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
মার্কিন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভেট এই অভিযান সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও দাবি করেছেন, জাহাজটি ভেনিজুয়েলা, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে অবৈধভাবে তেল আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ভেনিজুয়েলার জলসীমা থেকে বেরিয়ে আসায় জাহাজটির ক্রুদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে সেখানে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ের দিকেও গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তেলের বাজারের ওপর মার্কিন কঠোর নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর ফলে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার প্রভাব শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।