আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ভারতের সীমান্তঘেঁষা নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মসজিদে ভাঙচুরের পর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় দেশটিতে উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই সহিংসতার কারণে প্রতিবেশী ভারত জরুরি পরিষেবা ছাড়া নেপালের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টি মঙ্গলবার ভারতের সংবাদমাধ্যম NDTV জানিয়েছে।
মসজিদে হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেপালের পারসা জেলার বীরগঞ্জ শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে এই বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করে। ভারতের বিহারের রক্সৌল জেলার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত বীরগঞ্জে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
নেপালের ধানুশা জেলার কামালা পৌরসভায় হায়দার আনসারি ও আমানত আনসারি নামে দুই মুসলিম ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে ধর্মীয় অবমাননাকর মন্তব্য ছিল। এটি দ্রুত ধানুশা ও পারসা জেলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। স্থানীয়রা পরে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। যদিও এর কিছুক্ষণ পর কামালার সাখুয়া মারান এলাকায় একটি মসজিদে ভাঙচুর করা হয়, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
বিক্ষোভ চলাকালীন দেশটির বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন অভিযোগ করে, তাদের দেবদেবীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ ও স্থানীয় থানায় ভাঙচুর চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় অর্ধডজন কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। বীরগঞ্জে কারফিউ কার্যকর রয়েছে।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ভারত-নেপাল সীমান্ত জোরদার করা হয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) নেপালের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সাধারণ মানুষের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। মৈত্রী সেতুতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। সীমান্ত পার হওয়া প্রত্যেককে কঠোর তল্লাশি করা হচ্ছে। সহাদেওয়া, মহাদেওয়া, পান্তোকা, সিওয়ান টোলা ও মুশারওয়া এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
নেপালে পরিস্থিতির অবনতির কারণে সেখানে কর্মরত বহু ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিক দেশে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করা রাকেশ নামের একজন ভারতীয় নাগরিক জানান, বীরগঞ্জে সব দোকানপাট ও বাজার বন্ধ। তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার কাজে ফিরব, এখন সেখানে থাকা অর্থহীন।
নেপালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বৃদ্ধি এবং সীমান্ত বন্ধের ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা শঙ্কার মধ্যে পড়েছে।
সূত্র: NDTV