শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের ‘কারপেন্টার স্ট্রিট’ এখন থেকে ‘খালেদা জিয়া স্ট্রিট’ শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র ৬৬ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে নাম প্রত্যাহার করছে মার্কিন হামলায় ভেনেজুয়েলায় ১০০ জন নিহত অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র দিল্লি–আগরতলার পর কলকাতা উপ-হাইক‌মিশনে ভিসা সেবা বন্ধ রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে রুশ সেনারা পূরণ করছে ‘ঈশ্বরের লক্ষ্য’ : পুতিন ইউরোপে ভারী তুষারপাতে ৬ মৃত্যু, ফ্লাইট চলাচলে বিপর্যয় ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস, সংক্রমণ নিয়ে আইইডিসিআরের সতর্কতা
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের ‘কারপেন্টার স্ট্রিট’ এখন থেকে ‘খালেদা জিয়া স্ট্রিট’ শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র ৬৬ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে নাম প্রত্যাহার করছে মার্কিন হামলায় ভেনেজুয়েলায় ১০০ জন নিহত অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র দিল্লি–আগরতলার পর কলকাতা উপ-হাইক‌মিশনে ভিসা সেবা বন্ধ রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে রুশ সেনারা পূরণ করছে ‘ঈশ্বরের লক্ষ্য’ : পুতিন ইউরোপে ভারী তুষারপাতে ৬ মৃত্যু, ফ্লাইট চলাচলে বিপর্যয় ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস, সংক্রমণ নিয়ে আইইডিসিআরের সতর্কতা
নোটিশ :
Eid Bazar ! Eid Bazar ! Held on 30th March Saturday @ Paterson Firemanhall, Adress 226 Walnut ST, Paterson, NJ 07522 /  9th International Women's Day Award Held on April 27, 2024 @ The Brownston, 251 West Broadway, Paterson, NJ .7522 Ticket 70 Dollar Per Person Get Tickets From www.eventbrite.com

দেশে দেড় বছরে মব সন্ত্রাসে নিহত ২৮০

রিপোর্টার / ৮ বার
আপডেটের সময় : শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন

অনলাইন রিপোর্টারঃ

দেশে মব সন্ত্রাস একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। অল্প একটি ঘটনার পূর্বেই কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করে জনগণের একটি অংশ নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কখনো বা ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতির ফলে হত্যার, হেনস্তা বা লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, গত দেড় বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় মব সন্ত্রাসে নিহত হয়েছেন ২৮০ জন।

মব সন্ত্রাস সাধারণত দুইভাবে সংঘটিত হয়—কখনো ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা’ নামে, কখনো বা ‘তৌহিদি জনতা’ নামে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ব্যক্তিগত রোষ বা সামাজিক সমস্যার কারণে এসব ঘটনার জন্ম নেয়। সম্প্রতি প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানটের মতো প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় বাউল, নিরীহ মানুষ, শারীরিক প্রতিবন্ধীও আক্রান্ত হয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম পাঁচ মাসে মবের শিকার হয়ে নিহত হন ৯৬ জন। ২০২৪ সালের আগস্টে ২১ জন, সেপ্টেম্বরে ২৮ জন, অক্টোবরে ১৯ জন, নভেম্বরে ১৪ জন এবং ডিসেম্বরে ১৪ জন মারা যান। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাসে মবের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ২৮০ জন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতাও বিষয়টি আরও জটিল করেছে। দেশে আইন অনুযায়ী, অপরাধী হলেও কোনো ব্যক্তিকে মারধর বা হত্যার সুযোগ নেই। যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন, তারাও অপরাধী। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে অনীহা দেখায়। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, “মব সন্ত্রাস দমন করার ক্ষেত্রে পুলিশের নৈতিক অবস্থান কম। যারা গণঅভ্যুত্থানের প্রতিপক্ষ বলে মনে করেছে, তাদের মব সৃষ্টির ক্ষেত্রেও পুলিশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।”

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত বৈশ্বিক ঘোষণা অনুযায়ী, মব-সহিংসতার কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। ঘোষণার ১০ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সবার সমতার ভিত্তিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ট্রাইব্যুনালের অধীনে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

২০২৫ সালের ৪ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মবের প্রতিটি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না। তবে অনেক সময় প্রমাণ সংগ্রহে জটিলতার কারণে তদন্ত কিছুটা সময় নেয়। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, “যতই ঘটনা দ্রুত ঘটুক না কেন, সব ঘটনা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মবের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর।”

তবুও মব সৃষ্টি করে নানা ধরনের অপরাধের ঘটনা থামেনি। ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদের বাসায় হামলা চালানো হয়। ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। পরবর্তীতে আরও ৫০ লাখ টাকা দাবির চেষ্টা হলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

গুলশান, মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় পূর্বেও এমন ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসনের সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও মব সন্ত্রাস থামানো যায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ আক্রমণ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও কখনো কখনো মবের শিকার হয়েছেন। ফলে তারা নিজেকে বাঁচাতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন।

২০২৫ সালের ৯ আগস্ট রংপুর জেলার তারাগঞ্জে ভ্যানচোর সন্দেহে দুই নিরপরাধ মানুষ—রূপলাল দাস ও প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক প্রদীপ লাল—কে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও মবের ভয়ে তাদের উদ্ধার করেনি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মব সহিংসতায় অন্তত ১৮৪ জন নিহত হয়েছেন। ঢাকায় নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৭৮ জন। চট্টগ্রামে নিহত হন ৩২ জন।

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মব সন্ত্রাসে নিহত হয়েছেন ১১৪ জন, ২০২৩ সালে ৪৯ জন, ২০২২ সালে ৩১ জন এবং ২০২১ সালে ২৮ জন। ২০২৫ সালে ২০২৪ সালের তুলনায় ৭০ জন বেশি নিহত হয়েছেন।

মব সন্ত্রাসের উদাহরণ হিসেবে ২০২৫ সালে তৌহিদি জনতার নামে শিল্প-সংস্কৃতি কেন্দ্র ভাঙচুর, বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানোর ঘটনাও ঘটে। মুক্তিযোদ্ধাসহ বিরুদ্ধমতের মানুষদেরও হেনস্তা করা হয়েছে।

ফাইল সূত্র অনুযায়ী, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানট ভবনে হামলা চালানো হয়। প্রথম আলোর সামনে সিনিয়র সাংবাদিক নূরুল কবীর হেনস্তার শিকার হন। অনেক ঘটনায় পুলিশ নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ রয়েছে।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। মব সৃষ্টি করে তাকে পিটিয়ে মারা হয়।

ময়মনসিংহের ভালুকায় ‘ধর্ম অবমাননার অভিযোগ’ তুলে পোশাক কারখানার শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঢাকাময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করে তার লাশে আগুন দেওয়া হয়।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাউল, মরমি শিল্পী, লোকসংগীতশিল্পী, মঞ্চ ও যাত্রাশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীর ওপর ধারাবাহিক হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। মাজার ভাঙার ঘটনাও ঘটে।

২০১৯ সালের উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে নারী হত্যার ঘটনা, ২০১১ সালে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা এবং নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের চর কাঁকড়া এলাকায় কিশোরের গণপিটুনি ও হত্যার ঘটনা মানুষ এখনও মনে রাখে।

ইউটিউবার হিরো আলমও ২০২৩ সালের ঢাকা–১৭ উপনির্বাচনে হামলার শিকার হন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মব তৈরি ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, এটি বিপজ্জনক সংস্কৃতি, যা অতীতের ন্যাজি জার্মানির বই পোড়ানোর সংস্কৃতির দিকে ফেরাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, মব সন্ত্রাস সমর্থনের কোনো সুযোগ নেই। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা জরুরি।

 


এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর