অনলাইন রিপোর্টারঃ
একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই রিট দায়ের করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটের মাধ্যমে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়া সংবিধান ও নির্বাচনী বিধিমালার পরিপন্থী।
এ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ভোট ও গণভোটের তফসিল নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনগত আলোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি একই দিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হয়, তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ভোটারদের অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন প্রক্রিয়া সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে এই আপিল শুনানি ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরিস্থিতি ও আপিলের সংখ্যা অনুযায়ী সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
ইসি জানায়, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থী, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আগামী ৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করতে পারবেন। আপিল জমা দেওয়ার জন্য ১ সেট মূল কাগজপত্র এবং ৬ সেট ছায়ালিপি (ফটোকপি) মেমোরেন্ডাম আকারে প্রদান করতে হবে।
সারাদেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে আপিল গ্রহণের জন্য পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো:
রংপুর: বুথ-১ (আসন ১-৩৩)
রাজশাহী: বুথ-২ (আসন ৩৪-৭২)
খুলনা: বুথ-৩ (আসন ৭৩-১০৮)
বরিশাল: বুথ-৪ (আসন ১০৯-১২৯)
ময়মনসিংহ: বুথ-৫ (আসন ১৩০-১৬৭)
ঢাকা: বুথ-৬ (আসন ১৬৮-২০৮)
ফরিদপুর: বুথ-৭ (আসন ২০৯-২২৩)
সিলেট: বুথ-৮ (আসন ২২৪-২৪২)
কুমিল্লা: বুথ-৯ (আসন ২৪৩-২৭৭)
চট্টগ্রাম: বুথ-১০ (আসন ২৭৮-৩০০)
শুনানি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্ধারিত সিরিয়াল অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। এসময় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা তার প্রতিনিধি এবং আপিলকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকতে হবে।
শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে মনিটরে প্রদর্শন করা হবে এবং ই-মেইলে পিডিএফ কপি পাঠানো হবে। এছাড়া নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী নির্বাচন ভবন থেকে রায়ের হার্ডকপি সংগ্রহ করা যাবে। রায়ের বিতরণ সময়সূচি হলো:
১০-১২ জানুয়ারি: রায় ১২ জানুয়ারি
১৩-১৫ জানুয়ারি: রায় ১৫ জানুয়ারি
১৬-১৮ জানুয়ারি: রায় ১৮ জানুয়ারি
নির্বাচন কমিশনাররা জানিয়েছেন, তফসিল ও ভোটের সময়সূচি নিয়ে আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে। কমিশন নিশ্চিত করেছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ভোটারদের অধিকার রক্ষায় সকল ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কারণে ভোটার বিভ্রান্তি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নির্বাচন পরিচালনায় চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সমস্ত নির্বাচন ও আপিল প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
এই রিটের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দল ও সমর্থকরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তারা পর্যবেক্ষণ করছেন, কমিশন কীভাবে একই দিনে দুটি নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন পূর্বে জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সন্তোষজনক। তবে আপিল ও রিট প্রক্রিয়া এই পরিস্থিতিকে আরও সমালোচনামূলক করে তুলতে পারে।
প্রার্থীদের জন্য নির্দেশনা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণের বিষয়ে আপিল করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পূর্ণ রাখা বাধ্যতামূলক। এই সময় কমপক্ষে ৬ সেট ছায়ালিপি এবং ১ সেট মূল কাগজপত্র প্রস্তুত থাকতে হবে। কমিশন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি অঞ্চলে নির্দিষ্ট বুথ স্থাপন করেছে।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল নিয়ে আইনগত লড়াই এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি একত্রে চলছে। রিট ও আপিল প্রক্রিয়া নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।