আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি জোরদার করছে ইসরায়েল। দেশটির গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হচ্ছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ভেতরে চলমান বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ চাপ কমাতে তেহরান বাইরে শক্তি প্রদর্শনের পথ বেছে নিতে পারে—এমন আশঙ্কা করছে ইসরায়েল। বিশেষ করে সীমিত পরিসরে হলেও ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি উড়িয়ে দিচ্ছে না তারা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান সাম্প্রতিক সময়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করেছে। নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পাশাপাশি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার পরীক্ষাও নিয়মিত চালানো হচ্ছে। ইসরায়েলের আশঙ্কা, এসব হামলার উদ্দেশ্য বড় ধরনের সামরিক বিজয় অর্জন নয়; বরং দেশের ভেতরের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি সরানো।
ইসরায়েলি সামরিক সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য যেকোনো হামলা প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে ইরানের সামরিক তৎপরতার ওপর।
এদিকে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বারনিয়া সতর্ক করে বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাত ও হামলায় কিছু ক্ষতি হলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তার মতে, ইরান এখনো পারমাণবিক সক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে, যা ইসরায়েলের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি। তিনি বলেন, এই হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েল সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তার এই বক্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ঘালিবাফ আরও দাবি করেন, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভকে সহিংস রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনী এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ এখনো শুরু না হলেও দুই দেশের বক্তব্য ও সামরিক প্রস্তুতি পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দ্রুত বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।