আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরও তাদের অস্ত্র ভাণ্ডার অক্ষত রয়েছে। এই মুহূর্তে তারা এক যুগ আগে তৈরি পুরনো মিসাইল ব্যবহার করছে। গত এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে উৎপাদিত নতুন মিসাইলগুলো এখনও ব্যবহৃত হয়নি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইনি ইরানের রাষ্ট্রায়াত্ত্ব সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিকে বলেন, “আমাদের বেশিরভাগ অস্ত্র ভাণ্ডার অক্ষত রয়েছে। আরও উন্নতমানের অস্ত্র রিজার্ভে রাখা হচ্ছে। আমরা প্রস্তুত।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান প্রায় ৭০০টি মিসাইল এবং ৩ হাজার ৬০০টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এই হামলাগুলো একমাত্র দখলদার ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র বলেন, “গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর আমাদের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমান যেসব মিসাইল ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো এক যুগ পুরনো। গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে এই রমজানের যুদ্ধ শুরু হওয়া পর্যন্ত উৎপাদিত মিসাইলগুলো এখনও মোতায়েন করা হয়নি।”
নাইনি আরও বলেন, “আমরা এখনও প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক পরিকল্পনায় রিজার্ভে রাখা নতুন মিসাইলগুলো ব্যবহার করার সময় দেখছি না। আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো অস্ত্র ভাণ্ডার অক্ষত রাখা এবং প্রয়োজনে সেগুলো দ্রুত ব্যবহার করা।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, আইআরজিসির এই সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তারা শত্রু পক্ষকে জানাতে চাইছে যে, অস্ত্রশস্ত্রের জোগান ও সক্ষমতা যথেষ্ট এবং নতুন মিসাইল ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।
নাইনি বলেন, “বর্তমান অস্ত্র ব্যবহার শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং শত্রুদের উপর মানসিক চাপ তৈরি করাও আমাদের কৌশলের অংশ। এটি একটি শক্তিশালী বার্তা যে, ইরান তার সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখছে এবং শত্রুর হামলার প্রতিক্রিয়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।”
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইরানের এই বার্তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করতে পারে। নতুন মিসাইল ব্যবহারের প্রস্তুতি থাকা শত্রুপক্ষকে সতর্ক করছে এবং তাদের সম্ভাব্য কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা, আইআরআইবি