অনলাইন রিপোর্টারঃ
ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে জনগণের ভোটাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যেই বিএনপি আগামী দিনে সবাইকে নিয়ে একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।
রবিবার এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমান চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলার দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে এসব কথা বলেন। সমাবেশে লাখো মানুষের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ এখানে উপস্থিত মানুষের মাধ্যমে তিনি দেশের লক্ষ-কোটি মানুষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছেন—যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, মানুষের বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন, তারা যেন ধানের শীষ তথা বিএনপির ওপর আস্থা রাখেন।
তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই পাহাড়ের মানুষ হোক বা সমতলের মানুষ, ইসলাম ধর্মের মানুষ হোক বা অন্য কোনো ধর্মের মানুষ—সবাইকে নিয়ে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। বিভাজনের রাজনীতি নয়, ঐক্যের রাজনীতির মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র নির্মাণ সম্ভব। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই ঐক্যই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।
তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ ধানের শীষ ও বিএনপি নির্বাচিত হলে খেটে খাওয়া মানুষসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি তাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজে হাত দেবে। তিনি তার পরিচিত স্লোগান ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে বলেন, এই স্লোগান শুধু কথা নয়, এটি বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশকে যদি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তবে সকল রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো একটি দলের একক আধিপত্য নয়, বরং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালিত হতে হবে। অতীতে যেসব ভুল হয়েছে, সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে হবে।
দেশে ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গত ১৫ বছর যেমন জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, ঠিক তেমনি আরেকটি ষড়যন্ত্র আবারও শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের জনগণকে আবারও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে, যাতে তারা তাদের ভোটাধিকার ও মত প্রকাশের অধিকার হারায়।
তিনি সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ যেন আর কখনো জনগণের ভোটাধিকার, মত প্রকাশের অধিকার ও বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিতে না পারে। গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে এবং ভোটের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ভোটের দিনের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, শুধু ফজরের নামাজ নয়, তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোট দিতে প্রস্তুত হতে হবে। এরপর ফজরের নামাজ শেষে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে। প্রতিটি ভোট অত্যন্ত মূল্যবান, কারণ একটি ভোটই পারে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতি যেই করুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, দুর্নীতির কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিএনপি সেই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত আছে, যদি জনগণ তাদের দায়িত্ব দেয়।
তারেক রহমান আরও বলেন, পরিবর্তনের সময় এসেছে। এই পরিবর্তনকে অর্থবহ করতে হলে এবং দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভক্ত থাকলে পরিবর্তন সম্ভব নয়। ঐক্যবদ্ধ জনগণই পারে দেশকে এগিয়ে নিতে।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ডসহ বিএনপির বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি দলীয় প্রার্থীদের জন্য ভোট চান, যাতে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলার একাধিক সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। তারা সবাই বিএনপির নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। উপস্থিত নেতারা বলেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার নির্বাচন। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।