অনলাইন রিপোর্টার
অনুমোদন ছাড়া ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে দ্য ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক (ডিএমসি ব্যাংক) জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এমন অবৈধ কার্যক্রমে জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং তাই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংক না হয়েও ডিএমসি ব্যাংক হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ডিএমডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই অর্থ ব্যবহার করে দেশ-বিদেশে অঢেল সম্পদ অর্জন করেছেন, যার মধ্যে কক্সবাজারে ব্যক্তিগত বিলাসবহুল হোটেলও রয়েছে।
অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও বাংলাদেশ ব্যাংক শুধুমাত্র কিছু বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। উচ্চ সুদের লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ, মানি লন্ডারিংসহ নানা অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ডিএমসি ব্যাংক কোনভাবেই লাইসেন্স ছাড়া ‘ব্যাংক’ শব্দ ব্যবহার করতে পারে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান সমবায় অধিদপ্তরের অধীনে ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেগুলো অবৈধ। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে সমবায় অধিদপ্তরের কাছে বিষয়টি জানিয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার পরও ডিএমসি ব্যাংক অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এটি হালকাভাবে নেওয়া হচ্ছে না এবং শীঘ্রই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবু জাফর চৌধুরী নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে প্রচার করছেন, যদিও মূলত তিনি চাকুরিচ্যুত। ডিএমডি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা রয়েছে এবং পুলিশও তাকে খুঁজছে।
ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আরাফাতুল ইসলাম জানান, মনিরুল ইসলামের নামে আশুলিয়ায় হত্যা মামলা রয়েছে। তিনি বিগত আওয়ামী সরকারের দোসর হিসেবে জুলাই গণহত্যার মামলার আসামীও বলে জানানো হয়েছে।
নাগরিক টিম বহুবার ডিএমসি ব্যাংকের অফিসে গিয়ে মন্তব্য চাইলেও কেউ কোনো মন্তব্য করেননি। লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও তারা কোন জবাব দেয়নি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিএমসি ব্যাংক গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। কিন্তু এসব অর্থ কোথায় আছে এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তা এখনও অজানা।
বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণকে সতর্ক করেছে, অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জড়িত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগ ও মামলা অনুসন্ধান করছে।
ডিএমসি ব্যাংকের এই অবৈধ কর্মকাণ্ড দেশে ব্যাংকিং সেক্টরের বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়েছে এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে জনগণ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।