অনলাইন রিপোর্টারঃ
দেশে গত এক বছরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে খুনাখুনি ও সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতায় আড়াই শতাধিক বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার বড় একটি অংশে জুলাই গণ-আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশি স্থাপনা থেকে মোট পাঁচ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে গণভবন থেকে লুট হওয়া স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩২টি ভয়ংকর অস্ত্রও রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে অধিকাংশ অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও এখনো এক হাজার ৩৩৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি। পাশাপাশি দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৮৯টি গুলিও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ উসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সংঘর্ষে আরও বহু নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। সর্বশেষ গত শুক্রবার চাঁদা না পেয়ে বেপরোয়া সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রামের চকবাজার থানা এলাকায় এক শীর্ষ ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে নতুন করে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করছে। এর সঙ্গে থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় সেগুলো অপরাধীদের হাতে চলে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব অস্ত্র হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের প্রমাণও মিলেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ীসহ একাধিক এলাকায় কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী চক্রের হাতে এখন বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এতে করে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে দেশে অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে। তিনি বলেন, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে।
নির্বাচন সামনে রেখে থানা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বাড়াতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। গত ২৯ ডিসেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
পুলিশের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’-এ এখন পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৬২টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে ৬৪টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, চার হাজারের বেশি গুলি ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত এসব লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার করা না গেলে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা ও খুনাখুনির ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।