অনলাইন রিপোর্টার
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় প্লট দুর্নীতির তিনটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন রায় ঘোষণা করেন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা সরকারি জমি বরাদ্দ নেওয়া। এই মামলাগুলো দুদক দায়ের করেছে। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা সরকারি সম্পদে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ অন্যান্য আসামিদেরও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
তিনটি মামলায় মোট ২৩ জন আসামি রয়েছেন। প্রথম মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২ জন, দ্বিতীয় মামলায় শেখ হাসিনা, সজীব ও সায়মাসহ ১৭ জন, তৃতীয় মামলায় শেখ হাসিনা ও তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জন। মামলার একমাত্র আত্মসমর্পণকারী আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। অপর আসামিরা পলাতক থাকায় তারা রায়ের জন্য উপস্থিত ছিলেন না।
দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আফনান জান্নাত কেয়া তিন মামলায় মোট ৭৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা তার সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণাদি উপস্থাপন করেন এবং দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণের চেষ্টা করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা একমাত্র আত্মসমর্পণকারী খুরশীদ আলমকে শুধুমাত্র সরকারের চাকরিতে হুকুম পালনকারী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন।
রায়ের পর আদালত উল্লেখ করেছে, মামলা তিনটিতে প্রমাণিত হয়েছে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা অসৎ উদ্দেশ্যে সরকারি প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। বরাদ্দপ্রাপ্ত প্লটগুলোতে অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও প্রভাবিত করা হয়েছে। তারা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও সম্পদে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
তিনটি মামলার রায়ের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট দুর্নীতির বিষয়টি আইনিভাবে সমাধান হলো। বাকি তিনটি মামলা, যা মোট ছয়টি মামলা থেকে প্রাপ্ত, ১ ডিসেম্বর রায়ের জন্য নির্ধারিত। এই মামলাগুলোতে আরও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ও শেখ পরিবারের সদস্যরাও আসামি ছিলেন।
এই রায় দেশের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এমন রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এটি দেশের জনগণকে সচেতন করবে এবং সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।