স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর ধানমন্ডির একটি রেস্টুরেন্টে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির নিয়মিত প্রকাশনা নিউজ লেটার ‘গ্রামীণ অবসর’-এর ৮ম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠান মনোরম পরিবেশে সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনঃপেনশন ও বিভিন্ন ন্যায্য ভাতা আজও বাস্তবায়ন না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সাথে বিলম্ব না করে অবিলম্বে হাইকোর্টের সুস্পষ্ট রায় বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান তাঁরা।
গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সভাপতি কে এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। সমিতির সহ-সভাপতি মো. হাবিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন উপদেষ্টা এ কে এম গোলাম মাওলা ও মহাসচিব মো. সিদ্দিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সমিতির সাধারণ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন আবু নোমান মো. বজলুর রহমান, মো. হায়দার আলী, মো. আবুল খায়ের, আবদুর রশিদ খান, শরীফ মোহাম্মদ, জগদীশ ভঞ্জ, সৈয়দ মো. এনাম উল্লাহ, প্রদীপ্ত শাহীন ও সুভাশিষ ভৌমিকসহ অন্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা তাঁদের আলোচনায় গ্রামীণ ব্যাংকের দীর্ঘদিনের অবদানকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্তমান অবমূল্যায়নের চিত্র তুলে ধরেন।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রায় ১৪ হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার-পরিজন বর্তমানে চরম আর্থিক ও সামাজিক দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাঁদের ন্যায়সংগত পাওনা ও জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ভাতাদি পরিশোধ করা হচ্ছে না। গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এই অসংবেদনশীল মনোভাব ও উদাসীনতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বক্তারা।
সভায় গ্রামীণ ব্যাংকের সকল অবসরপ্রাপ্তকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আইনি ও নৈতিক দাবি আদায়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এ ধরনের টালবাহানা আর সহ্য করা হবে না। আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করা অনভিপ্রেত। তাই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার, পুনঃপেনশন ও ভাতাদি অবিলম্বে প্রদান নিশ্চিত করতে সরকারের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ এবং সুশীল সমাজের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে নিউজ লেটার ‘গ্রামীণ অবসর’-এর নিয়মিত প্রকাশনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা প্রকাশনাটির গঠনমূলক ও মানসম্মত লেখনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এটি অবসরপ্রাপ্তদের অধিকার আদায়ের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকা টুডে / এফআরজে