মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
নোটিশ :
Eid Bazar ! Eid Bazar ! Held on 30th March Saturday @ Paterson Firemanhall, Adress 226 Walnut ST, Paterson, NJ 07522 /  9th International Women's Day Award Held on April 27, 2024 @ The Brownston, 251 West Broadway, Paterson, NJ .7522 Ticket 70 Dollar Per Person Get Tickets From www.eventbrite.com

কে এই কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন?

রিপোর্টার / ৩ বার
আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

‘আমি কোনও যৌন শিকারি নই, তবে আমি একজন ‘অপরাধী’। একজন খুনির আর যে রুটি চুরি করে তার মাঝে যতটুকু পার্থক্য আছে, ঠিক তেমন।’ ২০১১ সালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এভাবেই বলেছিলেন জেফ্রি এপস্টেইন।

জেফ্রি এপস্টেইনের মৃত্যু ও অপরাধ ইতিহাস
২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি সুরক্ষিত কারাগারে এপস্টেইন মারা যান। ওই সময় তিনি জামিন ছাড়াই যৌন পাচারের মামলায় কারাগারে বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন।

এর এক দশকেরও বেশি সময় আগে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে যৌনসেবা নেওয়ার দায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাভোগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাঁকে যৌন অপরাধী হিসেবে নথিভুক্ত করে।

এরপর দ্বিতীয় দফায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে, তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের জন্য একটি বিশাল যৌন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। তবে এসব অভিযোগ থেকে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন।

২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুমোদন করে। এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আইনে স্বাক্ষর করেন এবং দেশটির বিচার বিভাগকে ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে এপস্টেইন-সংক্রান্ত সব তদন্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ দেন।

নির্ধারিত দিনে কিছু নথি প্রকাশিত হলেও আড়ালে থেকে যায় বেশিরভাগ। পরবর্তীতে আরও নথি প্রকাশ করা হয়। তবে পুরো নথি প্রকাশ শেষ হয়েছে কি না, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ডেপুটি-অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি নথি ‌‌‌‘অত্যন্ত বিস্তৃত পরিসরে নথি শনাক্ত ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার সমাপ্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবে দেশটির বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবিরসহ অন্যান্যরা দাবি করছেন, যথাযথ কারণ ছাড়া অনেক নথি গোপন রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত নথিগুলো এপস্টেইনের বিলাসী জীবন ও সমাজের উঁচু স্তরের পরিচিত মহলের নানা দিক উন্মোচন করেছে।

ট্রাম্পের দৃষ্টিতে এপস্টেইন

নিউইয়র্কে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এপস্টেইন ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে শহরের অভিজাত ডাল্টন স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেও এসব বিষয় পড়েছিলেন; তবে স্নাতক ডিগ্রি শেষ করতে পারেননি।

এক শিক্ষার্থীর বাবা তার মেধায় এতটাই মুগ্ধ হন যে, তাকে ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগ ব্যাংক বেয়ার স্টার্নসের একজন জ্যেষ্ঠ অংশীদারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। চার বছরের মধ্যেই তিনি বেয়ার স্টার্নসের অংশীদার হন। ১৯৮২ সালে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘জে এপস্টেইন অ্যান্ড কো’ গড়ে তোলেন।

ওই প্রতিষ্ঠান এক সময় ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনা করতো। অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সম্পদের মালিক হন এপস্টেইন। ফ্লোরিডায় প্রাসাদসম বাড়ি, নিউ মেক্সিকোতে র‍্যাঞ্চ এবং নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত বাসভবনের মালিক হন তিনি। পাশাপাশি সেলিব্রিটি, শিল্পী ও রাজনীতিকদের সঙ্গে ওঠাবসা শুরু করেন।

২০০২ সালে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনকে প্রোফাইলের জন্য দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, আমি জেফকে ১৫ বছর ধরে চিনি। দারুণ মানুষ। জেফ আমার মতোই সুন্দরী নারীদের পছন্দ করেন, আর তাদের অনেকেই তুলনামূলক কম বয়সী। ট্রাম্প আরও বলেন, “জেফ্রি তার সামাজিক জীবন উপভোগ করেন, এতে কোনও সন্দেহ নেই।

পরবর্তীতে ট্রাম্প দাবি করেন, ২০০০-এর দশকের শুরুতেই গ্রেপ্তার হওয়ার বহু আগেই এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়। হোয়াইট হাউসও জানিয়েছে, কর্মচারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের কারণে ট্রাম্প তার ক্লাব থেকে এপস্টেইনকে বের করে দিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের পাশাপাশি এপস্টেইন আরও কয়েকজন হাই-প্রোফাইল বন্ধু রেখেছিলেন, যা তাদের কোনও অন্যায়ের ইঙ্গিত দেয় না। ২০০২ সালে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, অভিনেতা কেভিন স্পেসি ও ক্রিস টাকারকে নিয়ে আফ্রিকা সফর করেন। ২০০৩ সালে চলচ্চিত্র প্রযোজক হার্ভি ওয়াইনস্টাইন-এর সঙ্গে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন কেনার ব্যর্থ চেষ্টা করেন এবং একই বছর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে ৩ কোটি ডলার অনুদান দেন।

তিনি যুক্তরাজ্যের রাজনীতিক পিটার ম্যান্ডেলসন-এর সঙ্গেও বন্ধুত্ব রেখেছিলেন, যা ম্যান্ডেলসনের ভাষায় তার জীবনের জন্য এক অনুতাপ। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের পদ হারাতে হয়, এবং পরে লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন।

তবে এসব সখ্যতার মাঝেও এপস্টেইন ব্যক্তিগত জীবন আড়ালেই রাখতে চাইতেন। সামাজিক অনুষ্ঠান ও রেস্তোরাঁয় ডিনার এড়িয়ে চলতেন। তিনি মিস সুইডেন বিজয়ী ইভা অ্যান্ডারসন ডুবিন এবং প্রকাশক রবার্ট ম্যাক্সওয়েলের মেয়ে ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েল-এর মতো তরুণীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন। কখনও বিয়ে করেননি।

টিফানি অ্যান্ড কো’র সাবেক সিইও রোজা মনকটন ২০০৩ সালের একটি প্রবন্ধে বলেছেন, এপস্টেইন ‘অত্যন্ত রহস্যময় এবং ক্লাসিক আইসবার্গ’ ছিলেন।

দণ্ড ও সমঝোতা

২০০৫ সালে ফ্লোরিডায় ১৪ বছর বয়সী এক মেয়ের বাবা-মা পুলিশকে জানান, জেফ্রি এপস্টেইন তাদের মেয়েকে পাম বিচে নিজের বাড়িতে যৌন নিপীড়ন করেছেন। পুলিশ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অসংখ্য মেয়ের ছবি উদ্ধার করে।

মার্কিন দৈনিক দ্য মিয়ামি হেরাল্ড জানিয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ওপর এপস্টেইনের নির্যাতন বহু বছর ধরে চলছিল। পাম বিচ পুলিশের তৎকালীন প্রধান মাইকেল রাইটার বলেন, ‘‘এটা কোনো ‘সে বলেছে–সে বলেছে’ ঘটনা নয়। এখানে একজন ‘সে’ নয়, প্রায় ৫০ জন একই গল্প বলেছেন।’’

২০০৭ সালে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রোফাইল প্রতিবেদনে কলামিস্ট মাইকেল উলফ লিখেছেন, বিচার চলাকালীন এপস্টেইন কখনও মেয়েদের বিষয়ে গোপনীয়তা রাখেননি।

এক পর্যায়ে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি অল্প বয়সী মেয়েদের পছন্দ করি।

২০০৮ সালে প্রসিকিউটররা হেজ ফান্ড ব্যবস্থাপক এপস্টেইনের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছান। এতে ফেডারেল অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পান, যা না হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতো। বদলে তিনি ১৮ মাসের কারাদণ্ড পান এবং ‘ওয়ার্ক রিলিজ’ সুবিধা ভোগ করেন। ১৩ মাস পর মুক্তি পান।

দ্য মিয়ামি হেরাল্ড চুক্তিটিকে আখ্যা দেয় ‘‘শতাব্দীর চুক্তি’’ হিসেবে। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে এর কারণে অ্যালেক্সান্ডার অ্যাকোস্টা পদত্যাগ করেন।

২০০৮ সাল থেকে এপস্টেইন নিউইয়র্কের যৌন অপরাধীদের তালিকায় ‘লেভেল থ্রি’ হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। ২০১০ সালে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে এপস্টেইনের সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রু-এর ছবি বিতর্কের জন্ম দেয়।

ম্যাক্সওয়েল মামলা

এপস্টেইনের মৃত্যুর পর আলোচনায় আসেন তার সাবেক সঙ্গী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল। ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ম্যাক্সওয়েল ২০২১ সালে যৌন পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এবং ২০ বছরের কারাদণ্ড পান।

আদালত মনে করে, ম্যাক্সওয়েল অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের এপস্টেইনের কাছে নিয়ে আসার মাধ্যমে শোষণে সহায়তা করেছিলেন। সাজা ঘোষণার সময় তিনি বলেন, জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় হওয়াটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুতাপ। এপস্টেইনের কেলেঙ্কারির আইনি অধ্যায় অনেকটা শেষ হলেও তার প্রভাব ও বিতর্ক আজও থামেনি।


এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর