আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলার জেরে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর প্রধান চারটি বিমানবন্দরে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক কর্তৃপক্ষ রোসাভিয়াতসিয়া নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।
সোমবার এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার রাতভর মস্কোসহ রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে মোট ১৭২টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী। এসবের মধ্যে ১১৭টি ড্রোনকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে ফেলতে সক্ষম হয়েছে রুশ সেনাবাহিনী।
বাকি ৫৫টি ড্রোনকে ধ্বংস করা যায়নি। এই ড্রোনগুলোর মধ্যে অন্তত ৩০টি মস্কোর শেরেমেতায়েভো, ভ্নুকোভো, দোমোদেদোভো এবং ঝুকোভস্কি— এই চারটি বিমানবন্দর আঘাত হেনেছে।
প্রসঙ্গত, এই চারটিই মস্কোর ব্যস্ত বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত। রোসাভিয়াতসিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বিমানবন্দরগুলোতে নিহত বা আহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি; তবে ৪টি বন্দরে বেশ কিছু উড়োজাহাজ ধ্বংস এবং বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ব্যাপক এই হামলা এবং তার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জেরে শত শত ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে এই চার বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া রাতে যখন একের পর এক ড্রোন আঘাত হানছিল, সে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন যাত্রীরা।
মস্কোর সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর শেরেমেতায়েভো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে— শেরেমেতায়েভো বিমানবন্দরের যাত্রী লাউঞ্জ ও অন্যান্য স্থানে যাত্রীরা আতঙ্কে মেঝেতে শুয়ে আছেন, অন্যদিকে বাইরে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।
রোসাভিয়াতসিয়া’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার জেরে রোববার রাতভর বিমানবন্দরে আটকা পড়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। শত শত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় এখনও তাদের ভোগান্তি কাটেনি।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে শুরু হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। তারপর সাড়ে তিন বছরে এই প্রথম মস্কোর বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে এত বড় আকারের হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী।
১ কোটি ৭০ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ রাশিয়ার জনসংখ্যা মাত্র ১৫ কোটি। আর রাজধানী মস্কো এবং তার আশপাশের এলাকাগুলোতে বসবাস করেন ২ কোটি ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ। সূত্র : রয়টার্স
এশিয়ান পোস্ট/আরজে