আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মধ্য আমেরিকার দেশ কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আল্টিমেটামের খবর এসেছে। কিউবার সাথে বাণিজ্য চুক্তিতে না আসলে দেশটিতে মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে তিনি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করান।
সাম্প্রতিক এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, যেসব দেশ কিউবায় তেল রপ্তানি করবে, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে। এই নির্দেশনার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে কিউবার হাসপাতাল, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য মৌলিক পরিষেবায়। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউমও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, কিউবায় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে।
ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে কথোপকথনে ট্রাম্প বলেছেন, “কিউবা যদি আমাদের কাছে আসে এবং একটি সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, তাহলে কোনো মানবিক বিপর্যয় হবে না। সব কিছু আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।” তিনি আরও বলেন, “কিউবার বর্তমান পরিস্থিতি খুবই খারাপ। দেশের কাছে অর্থ নেই, তেল নেই। এতদিন তারা ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা এখন নেই।”
গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা মাদুরো দম্পতিকে নিউইয়র্কের ফেডারেল কারাগারে বন্দি করেন। ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযান করা হয়েছিল। এছাড়া তিনি দেশটির জ্বালানি তেলের উত্তোলন, পরিশোধন ও বিক্রয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বময় কর্তৃত্ব আরোপ করেছেন, যা অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কিউবার কাছ থেকে স্পষ্টভাবে চাওয়া বিষয় নির্ধারণ করেননি। তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি কিউবা চুক্তিতে না আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কিউবান নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি আশা করি কিউবা নিকট ভবিষ্যতে একটি সমঝোতায় আসবে। না হলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের ফেরত পাঠানো শুরু হবে।”
ভেনেজুয়েলার অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর তেলের রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। চলতি সপ্তাহে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এমন বিধিনিষেধকে আরও কঠোর করা হয়েছে। এর ফলে কিউবার অর্থনীতি ও সামাজিক সেবা ব্যাপক চাপের মধ্যে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কিউবার জন্য নতুন চাপ সৃষ্টি করবে, যা দেশের জনগণের জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যসেবাকে প্রভাবিত করতে পারে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট শিনবাউম বলেছেন, এই ধরনের হুমকি কিউবার মৌলিক পরিষেবাকে সংকটাপন্ন করে তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিউবার ওপর এই আল্টিমেটাম দেশটির অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। কিউবা, যা দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল, এখন নিজস্ব তেলের অভাবের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপের মুখোমুখি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের ফলে কিউবার স্বাস্থ্যখাত, খাদ্য সরবরাহ এবং অন্যান্য সেবায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ট্রাম্প বলেন, কিউবা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আসে, তাহলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে চুক্তিতে না আসলে দেশটি মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে।
নির্বাহী আদেশে কিউবার তেল রপ্তানিকারী দেশগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে, তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। এটি কিউবার অর্থনীতিকে আরও কঠিন অবস্থায় ফেলতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়েছে।
এর আগে ভেনেজুয়েলার ওপর সামরিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলে দক্ষিণ আমেরিকার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ কিউবার ওপর একইভাবে চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য ধারণ করছে।
এই পরিস্থিতিতে কিউবার নিকটবর্তী দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিউবার অর্থনীতি ইতিমধ্যেই সংকটাপন্ন, আর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আল্টিমেটাম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এই হুমকি কিউবার জনগণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। কিউবার সরকার এখন কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আসবে, তা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।