আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৬ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলনে পরিণত হয়।
৮ জানুয়ারি থেকে বিক্ষোভ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে, যার বিরুদ্ধে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী ইন্টারনেট শাটডাউনসহ নজিরবিহীন দমন অভিযান পরিচালনা করেছে। এইচআরএএনএ জানায়, বিক্ষোভে অন্তত ৫৮৪৮ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ২০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। আরও ১৭ হাজার ৯১ জনের মৃত্যু সন্দেহভাজন হলেও তদন্ত চলছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণের অভিযোগে ৪১ হাজার ২৮৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে ৩,১১৭ জন নিহতের সরকারি হিসাব প্রকাশ করেছে, যেখানে বেশিরভাগ নিহত নিরাপত্তা বাহিনী ও দাঙ্গাবাজ বলে দাবি করা হয়েছে।
ইন্টারনেট শাটডাউন এবং কঠোর দমন-পীড়নের কারণে সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। নেটব্লকসের মতে, ইরানে এখনও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রকৃত চিত্র আড়াল করছে।
বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ধর্মীয় নেতৃত্ব ক্ষমতায় টিকে থাকলেও অনেক বিরোধী এখন বাইরের হস্তক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন। যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার হুঁশিয়ারি পেলে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তিনি ওই অঞ্চলে বিশাল নৌবহর পাঠানোর কথা বলেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে তারা দাঁতভাঙা প্রতিক্রিয়া দেবে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং গণমাধ্যম এই বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের ঘটনায় উদ্বিগ্ন, যা ইরানের রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটকে আরও গভীরতর করছে।