ইউরোপজুড়ে ব্যাপক ও ভারী তুষারপাতে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তীব্র শীত ও তুষারঝড়ের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ৫ জন ফ্রান্সের এবং বাকি একজন দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশ বসনিয়া অ্যান্ড হার্জিগোভিনার রাজধানী সারায়েভোর বাসিন্দা। ফ্রান্সে নিহত পাঁচজনের সবাই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সড়কের ওপর জমে থাকা বরফের কারণে গাড়ির চাকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে সারায়েভোতে তীব্র ঝড়ের সময় একটি গাড়ির ওপর গাছ উপড়ে পড়ে একজন নিহত হন।
বসনিয়া অ্যান্ড হার্জিগোভিনাসহ বলকান অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে তুষারপাতের পাশাপাশি ভারী বর্ষণও হচ্ছে। এতে পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম চালাতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারোত এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী সামনে আরও কয়েক দিন তুষারপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় তিনি নাগরিকদের খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার এবং সম্ভব হলে বাড়িতে থেকেই কাজ করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডের মোট ৯৬টি জেলার মধ্যে ৩৮টিতে তুষারপাতজনিত কমলা সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় ভারী তুষারপাত ও বরফ জমে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
তীব্র তুষারপাতের কারণে বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের প্রধান বিমানবন্দর রোইসি-চার্লস ডি গাউল্লে মঙ্গলবার তাদের নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৪০ শতাংশ বাতিল করতে বাধ্য হয়। একই দিনে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামের প্রধান বিমানবন্দর শিফোল এয়ারপোর্ট বাতিল করে ৪ শতাধিক ফ্লাইট।
ফ্লাইট বাতিলের ফলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বিকল্প ফ্লাইটের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাননি। ফলে বিমানবন্দরগুলোতে ভিড়, উদ্বেগ ও হতাশার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আমস্টারডামের শিফোল বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীরা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বারবার ফ্লাইট সূচি পরিবর্তন হওয়ায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। কেউ কেউ খাবার ও বিশ্রামের সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন। কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সড়ক, রেল ও আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন।