অনলাইন রিপোর্টারঃ
জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, অতীতের মতো পাতানো নির্বাচন হলে দেশ ধ্বংসের দিকে যাবে। বুধবার সকালে রাজধানীর জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ডা. সৈয়দ তাহের বলেন, “আগামী নির্বাচন দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের মতো অনিয়ম ও পক্ষপাতমূলক নির্বাচন হলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভেঙে যাবে এবং এটি রাজনীতির স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।” তিনি আরও বলেন, “দেশের জনগণকে বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রদানের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে জাতি ও দেশের জন্য বিপর্যয় আসা অনিবার্য।”
জামায়াত নেতা আরও উল্লেখ করেন, ১১ দলের নির্বাচনি আসন নিয়ে সমঝোতার বিষয়টি শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, “এনসিপিতে ১০টি আসন দেওয়ার দাবি সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে।”
ডা. সৈয়দ তাহেরের মতে, তাদের দল ক্ষমতায় এলে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার গঠন করা হবে। তিনি বলেন, “রাজনীতি কোনো এক পক্ষের আধিপত্য নয়, বরং সকলের অংশগ্রহণে সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আমাদের নীতি হবে গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও সমন্বিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে নির্বাচনী কমিশন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ ও নির্ভুলভাবে পরিচালিত হতে হবে। নির্বাচনী আচরণ বিধি কঠোরভাবে মানা নিশ্চিত করা হবে। দেশের জনগণ যেন প্রতিটি ভোটের মাধ্যমে তাদের ইচ্ছার প্রকাশ করতে পারে, সেটি আমাদের লক্ষ্য।”
জামায়াত নেতা ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সামনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা মূলত অতীতের অনিয়মপূর্ণ নির্বাচন এবং পক্ষপাতমূলক প্রশাসনের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চাই, আগামী নির্বাচনে এমন সমস্যা যেন পুনরায় না ঘটে।”
ডা. সৈয়দ তাহের বলেন, “প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং সকল প্রার্থীকে সমান সুযোগ দেওয়া হবে। নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতের নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জামায়াত সরকারে এলে রাজনৈতিক সহমত ও সংলাপকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।”
ডা. সৈয়দ তাহেরের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, দলটি নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়কে প্রধান গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ যেন তাদের ভোটের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে পারে, সেটিই দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দল দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে এই ধরনের পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে। ডা. সৈয়দ তাহের আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচন হবে দেশপ্রেমিক ও ন্যায়পরায়ণ সকলের জন্য।