ক্রীড়া ডেস্ক
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শের অপেক্ষায় রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় চলমান অ্যাশেজ সিরিজে চলতি বছরের প্রথম সেঞ্চুরিতে রিকি পন্টিংকে ছুঁয়ে গেলেন রুট। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিরিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করার মাধ্যমে রুট তার ক্যারিয়ারের ৪১তম শতক পূর্ণ করেছেন।
রুটের এই সেঞ্চুরি দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক টেস্টে সর্বকালের শীর্ষ সেঞ্চুরিয়ানের তালিকায় তিন নম্বরে উঠে এলেন। ১৬৩ ম্যাচ খেলে রুট পন্টিংয়ের (১৬৮ ম্যাচ) কাছাকাছি পৌঁছেছেন। এই তালিকায় তার উপরে কেবল জ্যাকস ক্যালিস ও শচীন টেন্ডুলকার রয়েছেন।
রুটের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ২০১২ সালের ডিসেম্বরে নাগপুরে ভারতের বিপক্ষে। পরবর্তী পাঁচ বছরে তিনি ২৪টি সেঞ্চুরি করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ৩৫ বছর বয়সী এই ডানহাতি ব্যাটার ইংল্যান্ডকে সিরিজে শক্তিশালী অবস্থানে রাখতে অবদান রেখেছেন।
সিডনির দ্বিতীয় দিনের খেলার লাঞ্চের আগে ১৪৬ বলে রুট তার ৬০তম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এরপর ২২৬ বলে ১৭তম দেড়শ রান পূর্ণ করে শচীনের সাথে দেড়শের তালিকায় সরাসরি প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন। শচীন টেন্ডুলকার এই মাইলফলকে ২০ বার পৌঁছেছেন, এবং ১৯টি দেড়শ রান করে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ব্রায়ান লারা ও কুমার সাঙ্গাকারা। তিনে ডন ব্র্যাডম্যান ১৮টি দেড়শ ইনিংসে সফল হয়েছেন। রুট এই দিনে মাহেলা জয়াবর্ধনেকে (১৬) পেছনে ফেলে দিয়েছেন।
এখন রুটের দৃষ্টি আরও বড় মাইলফলকের দিকে। মাত্র ৬৩ রান সংগ্রহ করলেই তিনি শচীনের (১৫,৯২১) পর টেস্টে ১৪ হাজার রান করা দ্বিতীয় ক্রিকেটার হবেন। সিডনিতে ২৪২ বলে ১৬০ রান যোগ করার পর তার মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১৩,৯৩৭ রানের।
রুটের অনবদ্য ইনিংসের পাশাপাশি দলের অন্যান্য ক্রিকেটাররাও অবদান রেখেছেন। হ্যারি ব্রুক ৮৪ এবং জেমি স্মিথ ৪৬ রান করেন। ইংল্যান্ডের ইনিংস ৩৮৪ রানে থামে, যদিও শেষ পাঁচ উইকেট ৬১ রানে হারানোর কারণে ইনিংস আরও বড় হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়।
রুটের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অ্যাশেজে ব্যাটের এই কীর্তি পুরো দলকে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে। রুট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে আরও বড় রেকর্ড স্থাপনের পথে আছেন, যেখানে লক্ষ্য শচীনের ১৪ হাজার রানের মাইলফলক।
রুটের ব্যাটিংয়ের নিখুঁত ধারাবাহিকতা, দারুণ এক ডানহাতি ইনিংস এবং রানের গতি তাকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ টেস্ট ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আগামী ম্যাচগুলোতে তার পারফরম্যান্সকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও ক্রিকেটপ্রেমীরা চোখ রাখবেন।