আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে ধ্বংসে সফল হবেন না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। মঙ্গলবার দেশটিতে দেওয়া এক ভাষণে খামেনি ওই মন্তব্য করেছেন তিনি। একই দিনে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাঝে পারমাণবিক সংকট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। খামেনি বলেছেন, ‘‘সম্প্রতি এক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ৪৭ বছরেও আমেরিকা ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করতে পারেনি… আমি আপনাকে বলছি, আপনিও সফল হবেন না।’’
মঙ্গলবার জেনেভায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরুর মাঝেই খামেনি ওই মন্তব্য করেছেন। এর আগে ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে দুই দেশের মাঝে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। গত বছর ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় আগের আলোচনা ভেঙে পড়ার পর ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ইরানের প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি বিমানবাহী রণতরী বহর মোতায়েনের পর নতুন করে ওই আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভাষণে সতর্ক করে দিয়ে খামেনি বলেছেন, উপসাগরে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, আমরা বারবার শুনি তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ইরানের দিকে একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। যুদ্ধজাহাজ নিঃসন্দেহে একটি বিপজ্জনক অস্ত্র। কিন্তু সেটিকে ডুবিয়ে দিতে সক্ষম অস্ত্র আরও বেশি বিপজ্জনক।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন খামেনি। তিনি বলেন, বাস্তবে আলোচনার খুব বেশি সুযোগ নেই। যদি আলোচনা হয় তাহলে আগেভাগে আলোচনার ফল নির্ধারণ করে দেওয়া ভুল এবং উন্মাদনার শামিল। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানের বিষয়ে এমন কথা বলেছেন তিনি।
গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র স্বল্প সময়ের জন্য ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় অংশ নেয়। যুদ্ধের আগের ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় পৌঁছানো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র বারবার শূন্য সমৃদ্ধকরণের আহ্বান জানিয়েছে এবং আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছে; যা ইসরায়েলও আলোচনায় আনতে চাপ দিয়েছে।
তবে ইরান বলেছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার নিয়ে কোনও আপস করা হবে না এবং আলোচনা কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। খামেনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য—কখনো হুমকিমূলক, কখনো কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয় তা নিয়ে নির্দেশনামূলক; ইরানি জাতির ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাই প্রকাশ করে।
সূত্র: এএফপি।