আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
৬ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিসহ দেশটির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল। ভূমিকম্পের তীব্রতায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে প্রাথমিকভাবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মেক্সিকোর ভূকম্প গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপের তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য গুয়েরেরোর সান মার্কোস শহরের কাছে, ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। সান মার্কোস শহরটি প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত পর্যটন শহর আকাপুলকো থেকে প্রায় ৯২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ভূমিকম্পের প্রভাব রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। অনেক ভবন কেঁপে ওঠে এবং কিছু এলাকায় মানুষজন আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও অফিস ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে ভূমিকম্পের সময় ভবনের দুলে ওঠার দৃশ্য দেখা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটির সঙ্গে ঢাকার সময়ের পার্থক্য প্রায় ১২ ঘণ্টার কিছু বেশি। সে কারণে মেক্সিকোয় সকালবেলায় সংঘটিত এই ভূমিকম্পের খবর বাংলাদেশে পৌঁছায় দুপুরের দিকে।
এদিকে ভূমিকম্পের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম। শুক্রবার সকালে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ন্যাশনাল প্যালেসের হলকক্ষে একটি সংবাদ ব্রিফিং চলাকালে হঠাৎ করেই ভূমিকম্পের সতর্কতামূলক অ্যালার্ম বেজে ওঠে। অ্যালার্ম শোনামাত্রই প্রেসিডেন্ট শিনবাউম, উপস্থিত সাংবাদিক ও অন্যান্য কর্মকর্তা নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে হলকক্ষ ত্যাগ করেন।
ভূমিকম্প থেমে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও ওই ব্রিফিং শুরু হয়। পুনরায় সাংবাদিকদের সামনে এসে প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম জানান, তিনি ইতোমধ্যে গুয়েরেরোর গভর্নর এভেলিন সালগাদোর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ব্রিফিংয়ে প্রেসিডেন্ট শিনবাউম বলেন, “আমি গুয়েরেরোর গভর্নর এভেলিন সালগাদোর সঙ্গে কথা বলেছি। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সৌভাগ্যের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত মেক্সিকো সিটি, গুয়েরেরো কিংবা দেশের অন্য কোনো এলাকায় ভূমিকম্পে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।”
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য আফটারশকের আশঙ্কায় জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি সেবা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে।