আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের পর যদি প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়, তাহলে রাশিয়া আর কোনো যুদ্ধ করবে না। তিনি ইউরোপের অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিকল্পনা চালাচ্ছে— এমন দাবিকে ‘ননসেন্স’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বছরের শেষ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন পুতিন। বিবিসির সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘রাশিয়া অন্য কোথাও বিশেষ সামরিক অভিযান চালাবে কি না’। জবাবে পুতিন বলেন, “যদি আপনারা আমাদের সম্মান করেন, তাহলে আর কোনো অভিযান হবে না। আমরা যেমন আপনারা সম্মান করার চেষ্টা করছি, আপনারা যদি আমাদের সম্মান করেন, তাহলে আর কোনো অভিযান হবে না।”
এর আগে গত সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, রাশিয়া ইউরোপের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধের পরিকল্পনা করছে না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি যুদ্ধ বাঁধে তাহলে রাশিয়া লড়াই করতে প্রস্তুত। তিনি আরও শর্ত দিয়েছেন, “যদি ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সম্প্রসারণ নিয়ে ইউরোপ কোনো প্রতারণা না করে, তাহলে আমরা যুদ্ধ করব না।”
পুতিনের এই মন্তব্য চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ন। গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাশিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও সেনা মোতায়েন ও সামরিক হুমকি দিতে থাকে।
রাশিয়ার এই অবস্থান ইউক্রেনীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একদিকে কিছু দেশ পুতিনের বক্তব্যকে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে, আবার অন্যদিকে অনেকে এটিকে কৌশলগত বক্তব্য বলে মনে করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুতিনের ‘সম্মান’ শব্দ ব্যবহার একটি কূটনৈতিক ইঙ্গিত, যার মাধ্যমে রাশিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বীকৃতি চাচ্ছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই রাশিয়ার কথাবার্তাকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ইউক্রেনের সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু কথা নয়, রাশিয়ার কর্মকাণ্ডই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করবে। বিশেষত ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে প্রাণহানি, বন্দুকবাজি এবং অঞ্চল দখলের বিষয়গুলো এখনো সমাধান হয়নি।
পুতিনের বক্তব্যে আরও উল্লেখ আছে, ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সম্প্রসারণ রাশিয়ার নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। রাশিয়া পূর্বাঞ্চলীয় সম্প্রসারণকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে। পুতিনের শর্ত অনুযায়ী, যদি পশ্চিমা দেশগুলো এই সম্প্রসারণ নিয়ে প্রতারণা না করে, তাহলে রাশিয়া যুদ্ধের পথ বেছে নেবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পুতিনের বক্তব্যে কূটনৈতিক ভাষার ব্যবহার লক্ষ্যণীয়। এটি মূলত ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি একটি সতর্কবার্তা এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্বীকৃতি চাওয়ার উপায়।