আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে দ্রুতগামী ট্রেনের ধাক্কায় এক শাবকসহ সাতটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় আরও একটি হাতি আহত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ২টা ১৭ মিনিটে হোজাই জেলায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকালে ট্রেনটি সাইরাং জেলা থেকে নয়াদিল্লির দিকে যাচ্ছিল। রাতের অন্ধকারে লামডিং ডিভিশনের যমুনামুখ-কামপুর সেকশনে বুনো হাতির একটি পাল লাইনে চলে আসে। স্থানীয়দের দাবি, ওই পালে কমপক্ষে ১১ থেকে ১২টি হাতি ছিল। দুর্ঘটনাস্থলটি আসামের রাজধানী গুয়াহাটি থেকে ১২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন এবং পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। যাত্রীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই বিশেষ ট্রেন পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থলে ভারতীয় রেলের কর্মকর্তারা গিয়েছেন এবং দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
ভারতীয় রেলের উত্তর-পূর্ব বিভাগের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা কপিঞ্জলকিশোর শর্মা বলেন, “ঘটনাস্থলটি নির্ধারিত হাতির করিডর নয়। চালক হাতির দলকে দেখতে পেয়ে ব্রেক কষেছিলেন। তবে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়নি। যাত্রীদের কেউ আহত হননি এবং অন্যান্য লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। সমস্ত ট্রেনের রিশিডিউল করা হয়েছে।”
দুর্ঘটনার কারণে উত্তরপূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের রেল পরিষেবা কয়েক ঘণ্টা ব্যাহত হয়। আসামের স্থানীয় প্রশাসন এবং রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
ভারতে ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু বিরল হলেও একেবারে নতুন ঘটনা নয়। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে আসামসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কমপক্ষে ৭৯টি হাতি ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে। পরিবেশবিদ ও স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণকারীরা এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ট্রেনের গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ, হাতির চলাচলের করিডর সনাক্তকরণ এবং সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাতির এই পাল নিয়মিত নদী ও বনাঞ্চল পার হয়ে চলাচল করত। ট্রেনের সঙ্গে সংর্ঘষ এড়াতে যথাযথ সতর্কতা এবং করিডরের চিহ্নায়ন না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনার প্রভাব হাতিদের সংখ্যা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার তদন্তে বিশেষ দল গঠন করেছে। তদন্তে দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, হাতি সংরক্ষণ ও ট্রেন চলাচলের মধ্যে সঠিক সমন্বয় করা হলে পুনরায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে না।