আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে তোশাখানা মামলায় ১৭ বছর কারাবাসের সাজা দিয়েছে আদালত। শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানী ইসলামাবাদের জবাবদিহিতা আদালতের (অ্যাকাউন্টিবিলিটি কোর্ট) স্পেশাল জজ শাহরুখ আরজুমান্দ এই রায় ঘোষণা করেন।
তোশাখানা মামলা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত উপহার সম্পর্কিত প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছিল। আদালতের রায়ে ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে প্রত্যেককে ১ কোটি ৬৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানাও দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা হারানোর প্রায় দেড় বছর পর, ২০২৩ সালের আগস্টে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে তাকে পাঞ্জাবের অ্যাটক কারাগারে রাখা হয়েছিল, পরে সেপ্টেম্বরে আদিয়ালা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে আদালতের এজলাস আদিয়ালা কারাগারে বসানো হয়েছিল।
তোশাখানা মামলায় এর আগে ইমরান ও বুশরা বিবিকে ১০ বছর কারাবাসের সাজা দেওয়া হয়েছিল, তবে পরে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সেই সাজা মওকুফ ঘোষণা করেছিল। আদালতের রায় ঘোষণার পর তারা ১৭ বছরের কারাবাসসহ জরিমানার মুখোমুখি হলেন।
তোশাখানা পাকিস্তানের সরকারি একটি বিভাগ, যা প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, আইনপ্রণেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপহার সংগ্রহ, রেজিস্টার ও সংরক্ষণ করে। আইনের মতে, সকল উপহার অবশ্যই এই বিভাগের মাধ্যমে সরকারকে জমা দিতে হবে। জমা দেওয়া উপহার সরকারি মূল্য অনুযায়ী ক্রয় করতে পারবেন, তবে তা অনেক বেশি মূল্যে বিক্রি করলে তা অবৈধ ধরা হয়।
ইমরান খানের বিরুদ্ধে তোশাখানা দুর্নীতি সংক্রান্ত বিতর্ক শুরু হয় ২০২১ সালে। ২০২২ সালের আগস্টে পাকিস্তান মুসলিম লীগ নওয়াজের (পিএমএলএন) সদস্য মোহসিন নওয়াজ রানঝা নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ইমরান খান বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান, সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোট ৫৮টি দামি উপহার পেয়েছিলেন। এসব উপহার তোশাখানায় জমা না দিয়ে কম মূল্যে কিনে বিক্রি করা হয়।
বিক্রয়কৃত উপহারগুলোর মধ্যে কিছু দামি হাতঘড়ি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৪ কোটি ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি। আদালতের রায় এবং জরিমানা ঘোষণা পাকিস্তানে রাজনৈতিক ও আইনি নজর কাড়েছে।
তোশাখানা মামলার এই রায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কারাবাস ও জরিমানা কার্যকর হওয়া সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।