আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্য ও বেশিরভাগ ইসলামিক দেশে আজ (২০ ডিসেম্বর) আরবি বর্ষপঞ্জিকার সপ্তম মাস রজবের অর্ধচন্দ্র দেখা হবে। যদি রজবের চাঁদ দেখা যায়, তবে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে মাত্র দুই মাস বাকি থাকবে।
আরবি বর্ষপঞ্জিকার চারটি পবিত্র মাসের একটি হলো রজব। এই মাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে কারণ রজব শুরু হওয়া মানেই রমজানের অপেক্ষার সূচনা। রজবের পর আসে শা’বান মাস। শা’বান শেষ হলে শুরু হয় মহিমান্বিত রমজান মাস।
রজব মাসের শুরু এবং দীর্ঘতা চাঁদ দেখে নির্ধারিত হয়। মাসটি সাধারণত ২৯ বা ৩০ দিনের হয়। যদি রজব ২৯ দিনের হয় এবং শা’বান ৩০ দিনের হয়, তবে রমজান শুরু হতে মোট ৬০ দিন বাকি থাকবে। চাঁদ দেখা অনুযায়ী রমজানের প্রথম দিন চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রজবের চাঁদ সন্ধান ও পবিত্র মাসের সূচি নির্ধারণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবসহ অনেক দেশ আগামী বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরুর সম্ভাবনা দেখছে। যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রমজানের প্রথম দিন হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি। তবে চাঁদ দেখা না গেলে মাস শুরুর দিন একদিন পিছিয়ে যেতে পারে।
রমজান মাস মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাস। এই মাসে রোজা, নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত এবং দান-সদকা বিশেষ গুরুত্ব পায়। মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য ইসলামিক দেশে ধর্মীয় সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ চাঁদ দেখে রমজানের সূচি ঘোষণা করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চাঁদ দেখা এবং ইসলামিক ক্যালেন্ডারের নির্ভুলতা মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও ধর্মীয় অনুশাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। আরবি মাসগুলো সূর্যাস্তের পরপরই শুরু হয়, যা রমজানের দিন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া, রমজান মাস শুরুর আগে রজব ও শা’বান মাসকে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রস্তুতির সময় হিসেবে দেখা হয়। মুসলমানরা এই সময় দোয়া, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে রমজানের জন্য প্রস্তুতি নেন।
এবারের রমজান মাসের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। চাঁদ দেখা অনুযায়ী বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও রমজান মাসের সূচি অনুসরণ করবে।