আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরানের এক ব্যক্তি ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে মৃত্যুদণ্ড ভোগ করেছেন। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দেশটির বিচার বিভাগের সংবাদমাধ্যম মিজান নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানায়। ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি ইসরায়েলের জন্য গুপ্তচরবৃত্তি এবং ইরানি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে দোষী সাব্যস্ত হন। ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক দশক ধরে চলমান ছায়াযুদ্ধে ইরান বহু ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, যারা ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং ইরানের ভেতরে তাদের কার্যক্রমে সহায়তা করেছিল।
নরওয়ের অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম আকিল কেশাভারজ। ২৭ বছর বয়সি এই স্থাপত্যবিদ্যা শিক্ষার্থীকে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সংগঠনটির দাবি, নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই তাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল।
ইরান–ইসরায়েল সংঘাত চলতি বছর জুন মাসে সরাসরি যুদ্ধে রূপ নেয়, যখন ইসরায়েল ইরানের ভেতরে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এসব অভিযানে ইরানের গভীরে মোতায়েন করা মোসাদ কমান্ডোদের ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত ইরানি নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই কার্যক্রম ইরানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নীতির অংশ হিসেবে চালানো হচ্ছে, যা ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান ছায়াযুদ্ধের সঙ্গে সংযুক্ত।
ইরান–ইসরায়েল সম্পর্কের তীব্রতা এবং দুদেশের মধ্যে চলমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। ইরান অভ্যন্তরে তথ্য সংগ্রহ ও গুপ্তচরবৃত্তি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে ইরানের বিচার ব্যবস্থা বিশ্বমঞ্চে বিতর্কের বিষয় হলেও দেশটির কর্তৃপক্ষ এটিকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার অপরিহার্য অংশ হিসেবে দাবি করে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের ওপর প্রভাব পড়ছে। তথ্যচুরি ও গুপ্তচরবৃত্তি রোধে ইরান কঠোর আইন প্রয়োগ করছে। নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানো এবং সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করাও এই নীতির অংশ।
নিষ্পত্তি সংক্রান্ত এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র নজরে এসেছে। তাদের মতে, নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় করা এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ইরানের পক্ষ এটিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করেছে।